T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় রবীন জাকারিয়া

বিবস্ত্র এক ধর্ষিত পুরুষ

ছাত্র অবস্থায় হঠাৎ বাবার মৃত্যুর পর বিশাল সংসারের দায়িত্ব পরে যায় আমার কাধে৷ পরিবারের ভরণ পোষণ, নিজের এবং ভাইবোনদের লেখাপড়া সবই সামলাতে হয় নিদারুন কষ্টে৷ তবে হাল না ছাড়ার দৃপ্ত প্রত্যয়ে সামলে নিয়েছি ঠিকই৷ কিন্ত নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো হারিয়ে ফেললাম ইচ্ছের বিরুদ্ধে৷
অবশেষে যখন বিয়ে করতে গেলাম তখন দেখলাম মাথার চুলের বেশ কিছু অংশ সফেদ রং ধারণ করেছে৷ যাহোক তবুওতো বিয়ে শাদি করতে হবে৷ তাই লেট ম্যারেজ করেই ফেললাম৷ কিন্ত তারচেয়েও ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো আমার স্ত্রীর বয়স আমার চেয়ে অনেক কম৷ অর্থাৎ আমি যখন বিয়ে করি তখন আমার বয়স ছিলো ৪৫ আর আমার স্ত্রীর ২৭ বছর৷ প্রথমে টুকটাক মেনে চললেও আস্তে আস্তে সম্পর্ক ভয়ঙ্কর মনে হতে থাকলো আমার কাছে৷
বিয়ের তিন-চার বছরে সন্তান না হওয়ায় ব্যাপারটা আরো রসালো আর মুখরোচক গল্পে পরিণত হতে থাকলো৷ কী লজ্জা! কী লজ্জা!
যাহোক পরবর্তিতে চিকিৎসা গ্রহণ করার পর অবশেষে আল্লাহ্ পাক আমাদের দুটি সন্তান দান করেন৷ অবশ্য শারীরিক সমস্যাটা আমারই ছিলো৷
এখন বাচ্চারা কিছুটা বড় হয়েছে৷ তাই ওরা মায়ের সাথেই থাকে৷ আর আমি আলাদা রুমে থাকি৷ আসলে সত্যি বলতে কি শুধু সন্তানদের জন্য নয় গোপন বিষয় হলো আমি পারতপক্ষে স্ত্রীর বায়োলজিক্যাল নিড থেকেও একটু দুরে থাকতে চাই৷ কেন জানি নিজেকে মেয়াদোর্ত্তীর্ণ মনে হয়৷
সেদিন রাত আনুমানিক দু’টোর দিকে আমার স্ত্রী সাজুগুজু করে আমার বিছানায় এসে রোমান্টিক আলাপ শুরু করে দিলো৷ নিজের ষষ্ঠইন্দ্রিয় সজাগ করতে চাইলো৷ বুজতে পারছি এক কৃষ্ণগহ্বরে পতিত হতে যাচ্ছি কিন্ত কিছু করার নেই৷ কেননা কৃষ্ণগহ্বরে সীমানায় আসলে কোন গ্রহই তার গ্রাভিটি ধরে রাখতে পারেনা৷ আমিও পারি নাই৷
ভোররাতে নিজেকে আবিষ্কার করলাম বিবস্ত্র এক ধর্ষিত পুরুষের ক্লান্তিমাখা দেহ৷

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।