প্রত্যেকটা মানুষের জীবন এবং যাপন পৃথক পৃথক হয়৷ কারণ তার পেশা পরিবেশ কিংবা পরিবার সবই তো আলাদা! কারোর পেশায় সেই ঝুঁকি নেই, প্রতিদিনের দশটা পাঁচটা ডিউটি নিশ্চন্ত একটা জীবন৷ চাকরী খোয়ানোর ভয় নেই, নির্ভয়, নিশ্চল জীবনের গতি৷ কারোর আবার পেশার অনিশ্চয়তা এতটা বেশি একদিনের একটা ভুলে তাকে ছিটকে যেতে হবে চলন্ত track থেকে৷
কখনও কখনও জীবনে সুযোগ অনেক পরে আসে৷ আর তখন যে কোন মূল্যেই সেই সুযোগকে হারাবার সব রকম পথকে একেবারে কংক্রিটের বাঁধ দিয়ে আটকে দিতে হয়৷ না হলে কোন না কোন ত্রুটি দেখিয়ে তোমাকে তোমার স্থানচ্যুত করবার গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে যাবে৷ সে ক্ষেত্রে মানুষটি কী করবে, তার এত কষ্টে অর্জিত জায়গা ছেড়ে দিয়ে সন্ন্যাসী সাজবে? নাকি যে ত্রুটির দিকে আঙ্গুল তুলে তাকে সরিয়ে দিতে চাইছে সেই ত্রুটি টাকে আড়াল করবে ? একজন মানুষ তার জীবন এবং জীবিকা বাঁচানোর জন্য যা করার ঐ পরিস্থিতি অনুযায়ী ঠিক মনে হবে সেটাই করবে৷
হতেই পারে তার নিজেকে সুরক্ষিত করার চেষ্টা, অনেকের কাছেই মজা বা বিনোদন মনে হতেই পারে! কিন্তু সে জানে আজ যে কটা উপহাস তার দিকে উড়ে আসছে, তারা যদি জানত তার আসল যুদ্ধের কাহিনী টা তবে তারাও তাকে হয়ত কুর্নিশ জানাত৷ আর আজকে মশকরা নিয়ে মন খারাপ করে বসে গলেও যে চলবে না! তার কাজ দিয়েই তাকে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে৷ হয়ত এই মানুষগুলোই একদিন তার এই জীবন যুদ্ধের সঙ্গে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করতে পারবে, হয়ত অনুভবও করতে পারবে৷ আবার কিছু মানুষ সবটুকু বুঝে মশকরার ছুরিতেই শান দিয়ে যাবে৷
অন্যে কী করবে জানিনা৷ আমার কথা বললে বলব কাজ করে যাও্ আগামী দিনে ওটাই তোমার পরিচয়৷ তারই নিরিখে মানুষ তোমাকে মনে রাখবে৷ নিজের আরও কী ভাবে ভালো হতে পারে তার চেষ্টা কর৷ তোমার জীবন, তোমার জীবন যুদ্ধ সবটাই তোমার৷ শুধু নিজের কাজের সমালোচনা কর আরও কীভাবে ভালো করা যায় চেষ্টা কর তবে কাউকে ছোট করে নয়, আঘাত করে নয় কারণ সবার সবটা তোমার জানাও নেই আর অধিকারও নেই৷