এই সময়টা আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই এক সময়ে ছিল । আজ আর তা নেই । কেননা এখন আমরা বড় হয়ে গেছি । এখন শুধু চোখ বুঝে একটু চিন্তা করলেই, সেই সব দিনের কথা গুলো মনে পড়ে যায় । ” ছেলেবেলা ” সত্যি যাকে ভোলা যায় না কোনদিনও । কত সুন্দরই না সেই সব দিনগুলো আমাদের প্রত্যেকের জীবনে ছিল । আজ আমাদের সন্তান ও অন্যান্য ছোট-ছোট ছেলে মেয়েদের দেখলেই মনে পড়ে যায় ।
ছেলেবেলা মানেই একটু বেপরোয়া । একটু বাবা-মায়ের অবাধ্য হওয়া । কথায় কথায় দুরন্তপনা দেখানো । যেকোনো জিনিসেই একটু জেদ করে আরো বেশি চাই মনোভাব । একসঙ্গে ভাই বোনের সাথে খেতে বসলে আমারটা ছোট, ওদেরটা বড় এরকম মনোভাব । মায়ের দেওয়া কোন কিছু নিজেরটা কোন সময়ই বেশি বলে মনে হয় না । সব সময় মনের মধ্যে আদর ও রাগ মাখানো স্বভাব জাহির করতে থাকা । ভালোবাসার সঙ্গে হিংসুটেপনা দেখানো । এসবই ছেলেবেলার অজ্ঞতা ও অজানা কারণে আমরা করে থাকি ।
সেই ছেলেবেলায় মনের মধ্যে ভীষণ জেদ থাকে যে, যেটা চাই তো চাই এক্ষুনি আমার চাই । বাবা-মা কিংবা কারো কোন অসুবিধার কথা তখন আমরা ভাবি না । শুধু নিজে পেলেই খুশি, এমন মনোভাব থাকে সেই সময় । একটু কিছুতেই রাগ হলেই ভাই বোনের সঙ্গে মারামারি । যদিও তেমন মারাত্মক ভাবে নয় । তবুও এই সবই আমরা ছেলেবেলায় অজ্ঞতার কারণেই করে থাকি । এখন এই বয়সে সেসব কথা মনে পড়লে, হাসি পায় । আর কষ্ট হয় ভেবে, যে ছেলেবেলা কত সহজেই হারিয়ে ফেলেছি আজ ।
সেই ছেলেবেলায় বাড়ির আশেপাশের বন্ধুদের সঙ্গে কত খেলাই না খেলেছি । খেলতে খেলতে হেরে গেলে কত মারামারিই না করেছি । দু তিন দিন তার সঙ্গে কথা না বলার পরে, আবার তারই সঙ্গে খেলা শুরু করেছি । আসলে ছেলেবেলায় আমাদের সব কিছু মনে থাকে না ; ভুলে যাই কোন ঘটনা খুব সহজেই । যেটা এই বড় বেলায় কোন ঘটনা সহজে আমরা ভুলতে পারি না । তখন সেই ছেলেবেলায় যতই খুনসুটি, মারামারি কিংবা কথা কাটাকাটি হোক না কেন, আবার তারই সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশেছি ও খেলেছি ।
ছেলেবেলার কিছু কিছু ঘটনা আমাদের আজও মনে পড়ে যায় । আবার অনেক ঘটনাই আমরা ভুলে যাই । ছেলেবেলায় আমাদের কোনো বাধ্যবাধকতা মূলক দায় দায়িত্ব থাকে না । তখন আমাদের জীবনটা থাকে উন্মুক্ত আকাশে একটা বন্ধনহীন পাখির মত । নির্ভাবনায় নিশ্চিন্তায় যা কিছু করে বেড়াতে পারি । কোন ভয় কিংবা সম্মান অসম্মানের কথা তখন আমরা ভাবি না । সবকিছুই মনে হয় সমান ও খুব সহজ ।
কত ভালোই না ছিল ছেলেবেলার সময়ের দিনগুলো ! পড়াশোনা, খেলাধুলো, বড়দের কাছ থেকে গল্প শোনা ও মা বাবার হাত ধরে ঠাকুর দেখতে যাওয়া । রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে এটা খেতে চাওয়া ওটা খেতে চাওয়া । বন্ধুদের সাথে পিকনিকে গিয়ে খাওয়া আর সারাদিন খেলা, সত্যিই কি ভালোই না ছিল !
তবে অনেকের ছেলেবেলা আবার ভালো কাটে না । কেননা আজও দারীদ্রতার জন্য ছোট বয়স থেকেই কাজ করতে বাধ্য হয় বাবা-মায়ের সংসারের সাহায্য করার জন্য । তারা বাস্তবের কঠিন রূপটা অল্প বয়সেই দেখতে বাধ্য হয় বলে, ছেলেবেলার মজাটা তারা নিতে পারে না । আশেপাশে সেইসব শিশুশ্রমিকদের যখন দেখতে পাই, তখন মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে যায় । আমার একার দ্বারা এদের জন্য কিছু করা সম্ভব নয় । তবে সরকারিভাবে যদি এসব শিশু শ্রমিকদের জন্য কিছু করা হতো, তবে খুব ভালো হতো ওই সব শিশুদের ও দেশের জন্য ।