T3 সাহিত্য মার্গ || ১৫০ তম উদযাপন || সংখ্যায় রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়

৮) সম্পর্ক আর নদী
সম্পর্ককে নদীর মত বইতে দাও৷ যাত্রা পথে সব বাধা পেরিয়ে সে যেন এগিয়ে যেতে পারে৷ কিন্তু সে বাধা যদি প্রবল হয় তবে নিশ্চিত নদী তার গতিপথ বদল করবে৷ সবার জীবনে সম্পর্ক পাহাড়ী ঝর্নার মত হয় না৷ কারোর কারোর জীবনে কুলুকুলু শব্দে বয়ে যাওয়া শান্ত নদীর মতই সম্পর্ক৷ তবে যেমনই হোক বয়ে যাওয়াই তার চরিত্র৷ কোথাও এতটুকু থেমে যাওয়া মানেই পরিস্থিতি আর স্বাভাবিক নয়৷
ছোট চারগাছকে জল দিয়ে, সাড় দিয়ে, বাতাস আলো দিয়ে একটু একটু করে বড় করতে হয়৷ তেমনই আবেগ অনুভূতি ভালোবাসা দিয়ে আলতো হাতের তালুতে যত্নে করে সম্পর্ককে একটু একটু করে বড় করতে হয় সম্পর্ককে৷ যে কোন একটা উপাদানের অভাবে যেমন গাছ বাঁচে না, তেমনি সম্পর্কও৷ তবে তার মানে ঐ কাঁচের বাসনের মত তাকে নাড়াচাড়া করতে হবে, ঐ যে গায়ে লেখা থাকে না Handle with care! ঠিক তেমনটাও নয়৷ কারণ ঠুনকো টোকায় বা ছোট্ট আঘাতে, আঁচড়ে যে সম্পর্ক ভেঙ্গে যায় সেই সম্পর্ক কোনদিন গড়েই ওঠেনি! হাওয়ায় ফোলান কেলুন দেখেছ তো? ঠিক তেমনটা ছোট্ট একটা ফুঁটো হয়ে গেলেই সব বেরিয়ে চুপসে যাবে৷
সম্পর্কেও ক্লান্তি আসে মাঝেমাঝে৷ খানিক দূরত্বের শীতলপাটি বিছিয়ে দিও৷ দূর থেকেই খেয়াল রেখো তার স্বস্তির৷ বাতাস করো সম্পর্কে৷ জিরোক ৷ ধীরে ধীরে কপালে জমে থাকা অভিমানের মেঘ মুছিয়ে দিও৷ দেখবে আবার সম্পর্কের গায়ে কস্তুরীর গন্ধ৷ আবার চারপাশটা রঙ্গিন লাগছে৷ আবার মনে হচ্ছে কথার পাহার জমে গেছে, আর তুমি ব্যস্ত হয়ে পরেছ সেইসব কথা ভাগ করে নিতে৷ ঝর্ণার মত কলকল শব্দে কথারা বেরিয়ে আসতে চায়৷ আলোর স্রোতে তোমার খুশি প্রজাপতির মত আবার ডানা মেলতে চাইবে৷
তখন দেখবে আবার ঠিক আগের মত বাতাসের নূপুরের ধ্বনি রিনরিন করে বেজে চলবে৷ না হয় অভিমানের পাহাড় তুমিই ডিঙ্গিয়ে গেলে! সত্যিই কী সেই মুহূর্তে তুমিও তাই চাও না ? একবার অহং ভেঙ্গে হাত বাড়ায় দেখই না! দেখবে নিতান্ত শিশুর মত সে তোমার দু বাহুর মধ্য ধরা দিয়েছে!