সম্পাদিকা উবাচ

”আজগুবি নয়, আজগুবি নয়, সত্যিকারের কথা। ছায়ার সাথে কুস্তি করে গাত্র হ’ল ব্যথা!” সুকুমার রায়ের এই কবিতাই যেন সত্যি হল রবিবার। ছায়ার সাথে যুদ্ধ করে তাকে এমন পরাজিত করলাম, সে যেন কোথায় গিয়ে লুকিয়ে পড়ল৷ কারণ এদিন কলকাতা শহর থেকে আচমকাই উধাও হল ছায়া। গাড়ি-বাড়ি, রাস্তায় হেঁটে যাওয়া মানুষ। সবই আছে। আছে কাঠফাটা রোদ্দুরও। অথচ দিনের বেলা কয়েক মুহূর্তের জন্য কোনও কিছুরই ছায়া দেখা গেল না কলকাতার রাস্তায়।
কয়েক মুহূর্ত মাত্র। তাতে কী! মহাজাগতিক ম্যাজিকে মাত হয়ে গেল কলকাতায়। রবিবার সকাল এগারোটা পঁয়ত্রিশ মিনিট। বিরল ছবি দেখল মহানগর। কয়েক মিনিটের জন্য ছায়াহীন (No shadow Day) হয়ে গেল চরাচর। নো শ্যাডো ডে বা ছায়াহীন দিবস! এমন ঘটনা সচরাচর ঘটে না। তবে ঘটল এদিন।
পৃথিবী একটি অক্ষের উপর ভর করে সূর্যের চারদিকে ঘোরে। এবং আরও একটি অক্ষের উপর নিজের চারপাশে ঘোরে। এই দুই অক্ষ পরস্পরের থেকে সাড়ে ২৩ ডিগ্রি হেলে রয়েছে। ২২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় সূর্যের উত্তরায়ণ। তখন মকরক্রান্তি রেখা ধীরে ধীরে মাথার উপর আসে। আবার ২১ জুন থেকে শুরু হয় সূর্যের দক্ষিণায়ণ। তখন কর্কটক্রান্তি রেখা বরাবর সূর্য ধীরে ধীরে মাথার উপর আসে। এই দুই ঘটনার সময় পৃথিবীর এক একটি জায়গায় সূর্য দিনের কোনও নির্দিষ্ট সময়ে ঠিক মাথার উপর অবস্থান করে। ফলে ছায়াশূন্য দিবসের সৃষ্টি হয়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সাড়ে ২৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ থেকে সাড়ে ২৩ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে বিশ্বের যে সব দেশ রয়েছে রবিবার তারাই ছায়াহীন হয়ে পড়েছে। এই ছায়াহীন ম্যাজিক সচরাচর না-ঘটলেও ফের জুলাই মাসের ৭ তারিখ এই ম্যজিকের রিপিট শো দেখবে কলকাতা। সেদিনও এই বিরল ঘটনার স্থায়ী হবে মাত্র কয়েক সেকেন্ড। কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকাতেই দেখা যাবে এই বিরল ঘটনা।
শুনেছি ভুতেদের নাকি ছায়া দেখা যায় না৷ তাহলে ??? আসলে আমাদের বিবেক বুদ্ধি ত্মসম্মানবোধ কবেই তো মরে গেছে! আর এগুলো ছাড়া একটা মানুষকে কি সত্যিই জীবিত বলা যায় ? তাই হয়ত …
না না মজা করলাম৷ বিজ্ঞানকে অমান্য করবার মত মূর্খ আমি নই৷ তবু ভাববার সময় এসছে৷ ইতিমধ্যেই দেরি হয়ে গেছে অনেকটা৷
সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন লিখতে থাকুন পড়তে থাকুন ৷
রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়