সম্পাদিকা উবাচ

ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সজেন্ডার ডে অফ ভিজিবিলিটি – বাংলা মানে করলে দাঁড়ায় আর্ন্তজাতিক রূপান্তরকামী দৃশ্যমানতা দিবস। গত ২০০৯ সাল থেকে এই দিনটি পালন হয়ে আসছে প্রতি বছর ৩১শে মার্চ তারিখে। গতকালও একইভাবে এই দিনটি পালিত হল৷ শুরুটা হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। রূপান্তরকাম আন্দোলনকর্মী রাচেল ক্র্যান্ডেল (Rachel Crandall)-এর উদ্যোগে শুরু হয় এই দিনটি উদ্যাপন, যা আজ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের নানা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এর আগে পর্যন্ত যেসব রূপান্তরকামী মানুষেরা ঘৃণা-বিদ্বেষ-হিংসার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের স্মরণে বছরে একটি দিন পালন করা হয় ‘ট্রান্সজেন্ডার ডে অফ রিমেম্বারেন্স’ হিসাবে। কিন্তু সব প্রতিকূলতার সামনে দাঁড়িয়েও যাঁরা নিজেদের স্বত্ত্বা ও লিঙ্গ পরিচয় প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, সেইসব রূপান্তরকামী মানুষদের জীবনকে উদ্যাপনের জন্য ও তাঁদের লড়াইয়ের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেই ১১ বছর ধরে এই দিনটি পালন হয়ে চলেছে। তাঁরাও যে আপনার আমার মত সমাজের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, সে কথা আমরা ভুলে যাই আর সেই কথাই যেন মনে করিয়ে দেয় এই দিনটা৷
ভুললে চলবে না গত ২০১৪ সালে ভারতের রূপান্তরকামী মানুষেরা মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট-এর নির্দেশ কার্যকরী হওয়ার ফলে পেয়েছেন নালসা (ন্যাশনাল লিগাল সার্ভিস অথরিটি) জাজমেন্ট, যেখানে তাঁদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, ভারতের সংবিধান অনুযায়ী তাঁরা সমস্তরকম মৌলিক অধিকার পেতে পারেন বলে জানানো হয়েছে এবং তাঁরা নিজেরাই নিজেদের লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণ করতে পারবেন এও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। এ কথাও এখানে উল্লেখিত যে লিঙ্গ পরিচয়ের ভিত্তিতে তাঁদের প্রতি কোনও রকম বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। যদিও বাস্তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকা ও দৈনন্দিন জীবনে এই বৈষম্যের ছবিটা অত্যন্ত স্পষ্ট।
রূপান্তরকামী মানুষদের দীর্ঘ বহু দশকের লড়াইয়ের স্বীকৃতি যেমন আসছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ার মধ্যে দিয়ে, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে যেমন রাজনৈতিতে তাদের যেন একরকম অদৃশ্যই করে রাখা হয়েছে এখনও পর্যন্ত। কোন লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনে এখনও তাদের প্রার্থী হতে কখনই দেখা যায় না৷
গত বছরই বাংলাদেশের পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ ভেঙ্গেছে তাঁর অচলায়তন৷ এই প্রথম সংবাদ-উপস্থাপক হিসাবে বাংলাদেশে এবার দেখা গেল কোনো রূপান্তরকামী ব্যক্তিত্বকে। বাংলাদেশের প্রতিভাবান রূপান্তরকামী মডেল, নৃত্যশিল্পী এবং অভিনেত্রী তাসনুভা আনন শিশিরকে। এইভাবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁরা, খুব স্বাভাবিক ভাবে যেন নিজেদের জায়গা তৈরি করে নিতে পারেন, মানুষ হিসেবে এটাই সর্বান্তকরণে প্রার্থনা করব৷
সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন লিখতে থাকুন পড়তে থাকুন ৷
রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়