প্রবন্ধে রতন বসাক

অত্যাচারের সঠিক বিচার করতে হবে কোনো রঙ না দেখেই

ভালোবাসার প্রতিরূপ স্বাভাবিক যৌন জীবন, আমাদের সমাজে মেনে নেওয়া হয় । যার কারণে পুরো বিশ্ব এগিয়ে চলেছে । কিন্তু যখন অস্বাভাবিক অর্থাৎ ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন কর্মে লিপ্ত হয় কোনো নর-নারী তাকে ধর্ষণ বলা হয় । এখানে কোনো প্রেম-ভালোবাসা থাকে না । এই ধর্ষণ হলো এক রকম শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার । এই সমাজে সেটা পুরুষের প্রতিও হতে পারে, আবার নারীর প্রতিও হতে পারে ।

এই ধর্ষণ আগেও হতো আর এখনো হয় । আগের ঘটনাগুলো ততোটা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তো না । বর্তমানে বিজ্ঞানের আবিষ্কার মিডিয়ার দৌলতে আমরা যেকোন ঘটনাই খুব সহজে জানতে পারি । বিশ্বের কোন প্রত্যন্ত গ্রামেই হোক কিংবা শহরে হোক । আর মানুষ এই ঘটনা জানতে পেরে প্রতিবাদে সামিল হয় খুব সহজেই । অন্যায়ের সঠিক বিচার চেয়ে মানুষ প্রতিবাদে নামে পথে ।

প্রাকৃতিক কারণেই নারীরা একটু দুর্বল হয় পুরুষের থেকে, এটা স্বাভাবিক । আর এই কারণেই পুরুষরা নারীদের প্রতি অত্যাচার খুব সহজেই করতে পারে । যদিও দেখা গেছে আজকের বিশ্বে যে, নারীরা পুরুষের সমান কর্ম করতে পারে যেকোনো ক্ষেত্রে ।

ধর্ষণ হ্যাঁ ধর্ষণ নামক এই অত্যাচার খুব সহজেই করতে পারে একজন পুরুষ । যদিও এদের পুরুষ বলা অন্যায় হবে । এরা তো এই সমাজে পশুর থেকেও অধম । আজও এমন কিছু পশুর চেয়েও অধম মানুষ আমাদের সমাজে আছে বলেই । নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন কর্মে লিপ্ত হয়ে, ধর্ষণ করে । তারা নিজের মনের ক্রোধের সুখটা মিটিয়ে নেয় । এবং এই জঘন্য কর্মের প্রমাণ লোপাটের জন্য সেই নারীকে হত্যাও করে থাকে ।

এমনিতেই বিশ্বে পুরুষের সংখ্যার থেকে নারীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসছে । আর এর ফলে আমাদের আগামীতে এক বিশাল সমস্যায় পড়তে হবে । তাই বিশ্বে প্রতি দেশেই নারী বাঁচাও অভিযান শুরু হয়ে গেছে । কিছু রাজনৈতিক ও আর্থিক কারণেই ধর্ষণকারী আজও ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে দোষ করেও ।

নারীদের প্রতি যেকোনো অত্যাচারই আমাদের গম্ভীরতার সাথে নিতে হবে । তাদের রক্ষা করার জন্য দেশে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে । যাতে কোনো মানুষ সাহস না পায়, নারীদের প্রতি অত্যাচার করতে । রাজনীতি-জাতি-ধর্ম-বর্ণ দূরে সরিয়ে রেখে এই অত্যাচারের বিচার করতে হবে ।

একজন নারী সুন্দর, সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন পেয়ে নির্ভয়ে থাকলে, সে একজন সুন্দর সন্তানকে জন্ম দিয়ে উপহার দিতে পারে এই বিশ্বকে । যা আমাদের সমাজ, দেশ তথা বিশ্বকে আরো ভালোর দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে । শুধুমাত্র একদিন-দুদিন প্রতিবাদ করে নয়, বাস্তবে নারীরা যাতে সম্মানের সাথে বাঁচতে পারে তার ব্যবস্থা সরকারি ভাবে করতেই হবে ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।