১. রাজস্থানের ঘর্ঘরা নদীর একটি লুপ্ত নদীখাতের ধারে পাওয়া এই প্রত্নক্ষেত্রকে মনে করা হয় ভারতবর্ষের সভ্যতার প্রাচীনতম নিদর্শন। বর্তমান হনুমানগড় ও সুরতগড়ের মাঝে কালিবঙ্গানের এই শহুরে প্রত্নক্ষেত্র।
২. ইতালিয় আর্কিওলজিস্ট তেসিতোরি প্রথম এই প্রত্নক্ষেত্রের অস্তিত্বের সন্ধান পান। তারপর স্বাধীনোত্তর ভারতে ১৯৫৩ সালে অমলানন্দ ঘোষ এই প্রত্নক্ষেত্রটিতে প্রথম খননকার্য চালান। ১৯৬০ সালে বি.কে.থাপারের তত্ত্বাবধানে পুনরায় এখানে খননকার্য চালানো হয়।
৩. প্রাক হরপ্পা যুগ থেকেই এই অঞ্চল ঘন জনবসতিপূর্ণ ছিল এখানে চাষের জমি, কাঠের লাঙল, অগ্নিবেদী ও উটের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
৪. রেডিওকার্বন ডেটিং পদ্ধতির হিসেবে এই সভ্যতা প্রায় পাঁচ হাজার বছরের পুরোনো। কোনো ঐতিহাসিক একে হরপ্পার চেয়ে পুরোনো মনে করেন। আবার অনেক ঐতিহাসিকের মতে এটি হরপ্পা সভ্যতারই অংশ।
৫. হরপ্পা সভ্যতার অন্যান্য শহরের মতো কালিবঙ্গানেও সিটাডেল পাওয়া গেছে। সিটাডেলে প্রবেশের জন্য উত্তর ও দক্ষিণমুখী দুটো প্রবেশপথ আছে।
৬. সিটাডেলের উত্তরদিকে একটি চওড়া সিঁড়ি, চওড়া রাস্তা ও বড় বাড়ি দেখতে পাওয়া যায়। এর দক্ষিণ অংশে বেশ কিছু যজ্ঞবেদী দেখতে পাওয়া যায়।
৭. সিটাডেল বাদ দিয়ে শহরের বাদবাকি অংশ অনেকটা দাবার ছকের আকৃতির।
৮. আপার কালিবঙ্গানকে (2500-1750 BC) হরপ্পার এবং লোয়ার কালিবঙ্গানকে (3500-2500 BC) প্রাক্ হরপ্পার নিদর্শন বলে মনে করেন ঐতিহাসিকরা।
৯. এখানেই প্রথম কৃষিকাজের অস্তিত্ব এবং লাঙল ব্যবহারের নিদর্শন পাওয়া যায়। কালিবঙ্গানের মানুষ প্রধানত গম খেতেন। বেলনাকৃতি প্যাটার্নের শস্যভান্ডারে গম সঞ্চয় করা হত। এখনকার পাঞ্জাব, রাজস্থানে পাওয়া তন্দুরের মতো তন্দুর পাওয়া গেছে কালিবঙ্গানের বাড়িগুলিতে।
১০. কালিবঙ্গানের বহু বাড়িতেই নিজস্ব কুয়ো ছিল। এখানে আয়তাকার কবরযুক্ত ও গোলাকার কবরযুক্ত সমাধি পাওয়া গেছে।
১১. হরপ্পা সভ্যতার অন্যান্য নগরের মতোই এখানে বহু সিলমোহর পাওয়া গেছে। যেগুলির মধ্যে দুজন যুদ্ধরত পুরুষের মাঝে একজন নারীর চিত্রায়িত সিলমোহরটি উল্লেখযোগ্য।
১২. হরপ্পা সভ্যতার সমস্ত প্রত্নক্ষেত্রের মধ্যে শুধুমাত্র কালিবঙ্গানেই মাতৃপূজার কোনো নিদর্শন পাওয়া যায় নি।
১৩. এখানে অসংখ্য কালো রঙের টেরাকোটার চুড়ি আবিষ্কৃত হয়েছে, আর সেইজন্যই এই জায়গার নাম কালিবঙ্গান। কালি মানে কালো আর বঙ্গান মানে চুড়ি।
১৪. রবার্ট রেইকস, বি.বি.লাল প্রমুখ আর্কিওলজিস্টদের মতে সরস্বতী বা ঘর্ঘরার শুকিয়ে যাওয়াই কালিবঙ্গানের পতনের কারণ। আবার এখানে ভূমিকম্প হওয়ার প্রমাণও পেয়েছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা।
১৫. আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার উদ্যোগে এখানে প্রাক্ হরপ্পা ও হরপ্পার সময়কালের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলির জন্য একটি মিউজিয়াম তৈরি হয়েছে ১৯৮৩ সালে।