কোনটাতে বেশি নম্বর দেবো জানি না… যদিও শরদিন্দুকে প্রথম চিনেছি স্কুলের ইতিহাস ক্লাসে!!!
বিজয়নগর পড়াচ্ছিলেন মালবিকা দি, হঠাৎ-ই তুঙ্গভদ্রার তীরে থেকে পড়ে শোনাতে লাগলেন!!!
সেই শুরু… তারপর কখনো গৌড়মল্লার, কখনো তুমি সন্ধ্যার মেঘ বা কালের মন্দিরা কিংবা অমিতাভ, চুয়াচন্দন, কুমারসম্ভবের কবি, তক্ত মোবারক, মরু ও সংঘ… সব, সবকটা রুদ্ধশ্বাসে পড়ার সময় কীভাবে ধীরে ধীরে ভালোবেসে ফেলেছি ভারতের অতীতকে।
পরবর্তীকালে ইতিহাসকে বিষয় হিসেবে বেছে নিয়ে ঐতিহাসিক উপন্যাস বা গল্পের সাথে ইতিহাসের অমিল পেয়েছি বহু, তবুও শরদিন্দুই আমার ইতিহাস প্রেমের কান্ডারী।
তারপর ধীরে ধীরে শরদিন্দুতে অবগাহন… ক্লাস তখন এইট বোধহয়, এতোদিন গোয়েন্দা বলতে ফেলুদা আর অ্যাডভেঞ্চার বলতে কাকাবাবু!!!
কানাঘুষো শুনি আছেন একজন পুরোপুরি বাঙালি ধুতি পরা গোয়েন্দা… ব্যোমকেশ বক্সী নাম তাঁর!!!
সত্যি বলতে, হাতে এসে পৌঁছান নি তিনি তখনো।
একদিন টি.ভিতে রবিবার বিকেলে চিড়িয়াখানা দিয়েছে… কীভাবে জানি না, দেখার অনুমতি মিললো…
সেই শুরু, আজ মহানায়ক ব্যোমকেশ হিসেবে উতরেছিলেন কী না,তা নিয়ে বহু তর্ক করি হয়তো… কিন্তু আমার ব্যোমকেশ পড়ার অদম্য সাধ কিন্তু তিনিই জাগিয়েছিলেন!!!
এখানেই থামা যাবে না… শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়ের বরোদা আর তাঁর ছোটগল্পও কিন্তু সমান আর্কষণীয়!!
জাতিস্মর, কাঁচা মিঠে, ভল্লূসর্দার, প্রেমের প্রায়শ্চিত্ত, পুষি ভুলোর বনবাস… নাম গুনতে বসলে সম্পাদকীয়র লাইন কম পড়বে।
গতকাল ২২শে সেপ্টেম্বর ছিল শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়ের মৃত্যুদিন। মৃত্যুর ৫০ বছর পরও সাহিত্য আর সাহিত্যাশ্রয়ী সিনেমাতে শরদিন্দু সমান প্রাসঙ্গিক… একই রকম জনপ্রিয়, এই ২০২০ তে দাঁড়িয়ে সেলুলয়েডে ব্যোমকেশ আর সত্যবতীর চরিত্রায়নের কম্পিটিশন তার জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ।