আমার জীবনে কোনোদিন নিজের ঠিকানা হল না!!!
বারবার ঘর বদলাই…ঘরই বললাম,বাড়ি নয়!
আসলে প্রতিবার যেখানে নতুন করে থাকতে শুরু করি,সেখানে ক্যাবিনেটের প্লাই,পর্দার রঙ থেকে ফুলদানির গোলাপটা সাদা হবে কী না তাও ভেবে ভেবে চিন্তে মাপঝোঁক করে করি,তাই সেইসব ফেলে আসা ঠিকানা আমার ঘরই ছিল!
শেষ পর্যন্ত যে দুকামরার ফ্ল্যাটকে ঘর বানালাম,নাম দিলাম ‘পাটলিপুত্র’…এখন সেখানেও যাই মাসে একবার!!!
খুব কাছের দু-একজন যারা বলে যেতে তো পারিস দু-একদিন সপ্তাহে…তাদের আসল সত্যিটা বলি নি কোনোদিন!!!
পাটলিপুত্রে ঢুকলেই আমার মন খারাপ হয়…
আমি এখন ফিরে এসেছি আমার গোল বারান্দার কাছে,ছোটবেলায় ঐ গোল বারান্দা আর সিঁড়ির ঘর আমার জগৎ ছিল…
এখন সেই গোল বারান্দায় বসে বাবা আর খালি গলায় গান গায় না!!! আমিও ওখানে দাঁড়িয়ে দিদিভাইইই বলে কাউকে হাঁক দিয়ে ডাকি না…
তবুও গোল বারান্দায় দাঁড়ালেই হাসনুহানার গন্ধটা এখনো ভেসে আসে!!
এখন আমার ছেলে প্রতিদিন আমার ছোটবেলাকে ছুঁয়ে ছু্ঁয়ে দেখে আর একের পর এক প্রশ্ন করে চলে,সেসব প্রশ্নের উত্তর দেয় আমার মা!!!
এইভাবেই কীভাবে যেন একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হয়ে যায়….