কবিতায় বলরুমে পার্থ সারথি চক্রবর্তী

জীবন চলে আপন ছন্দে
আমার মনের ভেতর পাশাপাশি শুয়ে আছে দু’টো নদী
একটা আনন্দের অপরটা দুঃখের
একজন শুধুই দিয়ে যাচ্ছে অকাতরে
অপরজন নিয়ে যাচ্ছে বিনাবাক্যে
ভারসাম্য বজায় থাকছে সবসময়, এমনটাও নয়
কাইনেমেটিক্স মুখ থুবড়ে পড়ছে
আনন্দের নদী যখন উপচে পড়ে
আশপাশের খাল,বিল, ডোবাতে সরবরাহ হতে থাকে-
তরলের ধর্ম মেনে
আর দুঃখের নদী ধারণ ক্ষমতা
হারিয়ে ফেললে , তখন
আত্মস্থ করে নেয় নিজের মধ্যে
যার যার নিজের জায়গায় কাইনেমেটিক্স ঠিকঠাক
অবাক হবেন শুনলে, প্রথম নদীতে নৌকা চলে
জলবিহার করে আমার প্রিয়জনেরা
সুদৃশ্য পোশাক পড়ে মাঝি দাঁড় টানে
গান বাজে মনের আনন্দে, গুনগুন সুর তালে
পারাপার করা কি সহজ, অনায়াস
দু’নম্বরটায় নৌকা তো দূরের কথা, পাড়ের কাছেও কেউ আসে না
দূর থেকে কেউ কেউ আবার দেখে দূরবীন দিয়ে
আমার যদি পারাপারের দরকার হয়
ডুবসাঁতার দিই শ্বাস বন্ধ করে
পৌছে যাই এক পড়ন্ত বিকেলে
ভারসাম্য বজায় রাখার এই চেষ্টা চলতেই থাকে
সাঁতার কাটতে গিয়ে যা কিছু উপচে ওঠে
আর্কিমিডিসকে সাক্ষী রেখে জমিয়ে রাখি
অভিজ্ঞতার পানপাত্রে, পরে পান করব ব’লে
ভারসাম্য তাও বজায় রাখতেই হবে
নদীর পাড়ে বাঁধ দেওয়া যে নিষিদ্ধ
আনন্দের নদী নিয়ে মাথাব্যথা নেই
তবে দ্বিতীয়টা চিন্তার, তাই ভাবছি
বসাব আমার মনের পাহাড়, পাহারায়
সে সব শুষে নেবে,আমার বিশ্বাস
আমার আবার ঢেউ গোণার অভ্যাস নেই
শুনেছি ঢেউয়ের তালে তালে সময় বাজে
ঢেউয়ের গায়ে ঠিকানা লেখা থাকে
ঢেউ নাকি চাঁদকে কাছে টানে, তবে মাঝে মাঝে আমাকেও
তরঙ্গয়িত জীবনে কম্পাঙ্ক বদলে যেতে থাকে
নদীদু’টো কখনো শুকিয়ে যায়, কখনো বান আনে
চাঁদের আলোয় মায়াবী রং খেলে
জীবনের ওঠাপড়ার ছন্দ মিলিয়ে
জলতরঙ্গের চেনা সুর বাজে মনে
একাউস্টিক্সের জটিল সূত্র মেনে
তবে সব সূত্র খাটে না সবসময়
জীবন চলে তার আপন ছন্দে, বোহেমিয়ানায়।