একটা গমগমে গলায়,
“আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জীর;
ধরণীর বহিরাকাশে অন্তরিত মেঘমালা;
প্রকৃতির অন্তরাকাশে জাগরিত জ্যোতির্ময়ী জগন্মাতার আগমন বার্তা।
আনন্দময়ী মহামায়ার পদধ্বনি অসীম ছন্দে বেজে উঠে রূপলোক ও রসলোকে আনে নব ভাবমাধুরীর সঞ্জীবন।
তাই আনন্দিতা শ্যামলীমাতৃকার চিন্ময়ীকে মৃন্ময়ীতে আবাহন”…
ঐ “আবাহন” শব্দটা বলার মধ্যেই এমন কিছু ম্যাজিক ছিল, যে বুকের ভিতর স্পষ্ট শুনতে পেতাম ঢাকের বোল!!!
তখনো নাম জানি না রেডিওর ওপারে থাকা মানুষটার, কিন্তু এটা জানতাম… উনি “আবাহন” না করলে মা আসবেন না পাড়ার প্যান্ডেলে, শিউলি ছড়িয়ে থাকবে না উঠোনে, বম্বে থেকে বড় মামা কিংবা গোয়ার ছোট পিসিরও আসা হবে না এবছর!!!
এইভাবেই ঐ কন্ঠস্বরের মানুষটির ডাকলেই তবে না মা দুগ্গা আসবেন আমাদের ঘরে!!!
সবাই ফিরবে…
পরে আরোও একটু যখন বড় হলাম, তখন শুনলাম রেডিওর ভিতরে বসে মা দুগ্গাকে ডেকে নিয়ে আসা মানুষটির নাম বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র… জানলাম “মহিষাসুরমর্দিনী”- এর কালজয়ী বা মিথ হয়ে ওঠার ইতিহাস!!!
একটা তিথি, তার মাহাত্ম্যের ওপরেও একজন মানুষের অমর হয়ে যাওয়ার গল্প…
এক কায়েতের চন্ডীপাঠে আপামর বাঙালির জাত পাতের উর্দ্ধে উঠে উমা বন্দনার অমোঘ কাহিনী।
মহালয়া… পিতৃপক্ষের অবসানে দেবীপক্ষের সূচনায় (২০২০ তে দেবীপক্ষ যদিও এক মাস পরে শুরু হবে) মায়ের আসার মাহেন্দ্রক্ষণের ভোরে আমাদের পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে করা তর্পণ, উৎসবের সূচনায় যাঁরা ছেড়ে গেছেন আমাদের তাঁদের মনে করার দিন… কুমোরটুলির গলির ভিতর, মায়ের চক্ষুদানের দিন।
আর, সবকিছু ছাপিয়ে মহালয়া তিথি বাঙালির কাছে একটা রেডিও আর বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চন্ডীপাঠে অবগাহনের দিন!!!