গুচ্ছকবিতায় প্রভাত মণ্ডল

হে প্রদীপ

হে প্রদীপ…..
তুমি নিজেকে জ্বালায়ে
সমাজ আলয়ে
ভরে দাও ওগো আলো ।
আজ বন্ধ্যা সমাজ মানবিকতা
বন্ধ্যা আঁখির জটিলতা
দেখেও যারা দেখে না কিছুই
তারাই শুধু ভালো ।
সুখের আখরে দুখের আঁধার
ঘুচায়ে মুছায়ে দাও অনিবার
মনের যত কালো ।
হে প্রদীপ…..

বিচার

অন্ধকার আজ তিলোত্তমা
অন্ধকার এ ভূমি ,
অন্ধকারে আজও আছো
ধর্ষিতা বোন তুমি ।
বিচার চেয়েছো যাদের কাছে
এরাই ধর্ষিতা ,
বিচার পাবে কিভাবে তুমি
ওরাই যে গ্ৰাসীতা ।
যত বেড়ে ওঠে আপিলের বোঝা
ততো বাড়ে হুমকি ,
ধর্ষক আজ দেবতা সম
শাসকের শক্তি ।
প্রশাসক আজ পড়েছে ঠুলি
চোখেতে বাঁধন বেঁধে ,
ধর্ষতা আজ দ্বারে দ্বারে ফেরে
চায় বিচার কেঁদে কেঁদে ।
তবুও ওদের হয় না মায়া
ভাবে না আগু পিছু ,
ওদেরও যে সংসার আছে
ওরা ভুলেছে সব কিছু ।
সময় থাকতে সাজা দাও ওগো
শুনছো ন্যায়ের দন্ড ,
চেয়ে দেখো ওই ভাঙতে চলেছে
তোমারও মেরুদন্ড ।

তবু ডেকে চলে

হে প্রভু
তুমি বাজায়ে বাঁশি এ ভবে আসি
খেলিলে এ কোন খেলা ,
দিবা নিশি তাহে গাঁথিছে মানব
তব প্রেম নাম মালা ।
তব বিরহে জ্বলিছে বক্ষ
উঠিছে না কোনো ধোঁয়া ,
লাজে রাঙা তব ও বদন খানি
ধরায়েছে এ কোন মায়া ।
আঁখির জলেতে ভাসায়েছে বুক
শত কোটি নর-নারী ,
শুনিতে চাহে ও বাঁশির শব্দ
দিতে চাহে এ ভব পাড়ি ।
তবু তুমি ওগো দাওনা দেখা
আসনা ভবের মাঝে ,
নাহি শোনাও ও বাঁশির শব্দ
কভু দিবা নিশি সাঁঝে ।

হে ফুল

হে ফুল তুমি কার !
ওই বৃক্ষের নাকি মালির নাকি মালিকের
নাকি ওই দাম দিয়ে কেনা ক্রেতার ,
তুমি তো নিজেও জানো না ফুল
তোমা জীবনে মস্ত বড়ো ভুল
এ ধরনী বক্ষে ফুটে ওঠাটাই ,
জীবন যন্ত্রনা সয়ে বহু কষ্ট বুকে লয়ে ।
যে বৃক্ষ হতে পরিণত তুমি
মালির দিবা-রাত্রির পরিশ্রমের ফল ,
সু-সৌরভ ছড়ায়েছিলে এ বাগানে ,
আজ সেই তুমি অন্য কারো ঘর
বৃক্ষ আর মালিরে করে দিয়ে পর
দিবা নিশি আলো হয়ে জ্বলিছো ।
হে ফুল তুমি কার !
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।