গুচ্ছকবিতায় প্রভাত মণ্ডল
by
TechTouchTalk Admin
·
Published
· Updated
মিথ্যা ফানুস
শঙ্কিল পৃথিবী শঙ্কিত রাত ভোর,খুঁটে খাওয়া ওই
মানুষের মনে ব্যথা,উপবাসে কাটে মহামারী দিনগুলো,
দেখি মানুষের রাজা মস্ত সামগ্ৰী চোর।
রাজার কুলায় বাহারি রঙিন বাতি,সাজানো গোলাপ
বিছানো ফুলের রাশি,অভুক্তদের বাইরে দাঁড়ানো সারি,
নজর থাকে ডাস্টবিনে সারা রাতি।
সকাল হলেই উচ্ছিষ্টের পাহাড়,জমে যায় সব ক্লান্ত
পথের ধারে,রাতজাগা যত কৃশকায় মনুর দল,
কাড়াকাড়ি আর মারামারি করে মরে।
সাম্যবাদের মিথ্যা ফানুস ওড়ে,সভ্যের দল উল্লাসে
সারারাত,প্রজার পাঁজরে মুকুটমণির মালা আর উদরে
অন্নাভাব,তবু রাজার প্রাসাদ আকাশ ভেদ করে।
কিনে নেব মৃত্যু
মৃত্যু দেখেছি বহুবার, তবু কিনতে পারিনি তাকে দাম দিয়ে,
উপত্যকার শরীর জুড়ে নেমেছে কান্না, তুমি কি দেখেছ
সেই ফুল হয়ে ফুটে থাকা শিশুদের মননের ভাবনা!
পরিযায়ী ছুটে চলে অশান্ত পৃথিবীতে, ফুলেদের মুখ
সারিসারি, বুঝি খসে পড়ে যায় পৃথিবীর অবেলায়,
গোধূলিতে মেঘেদের মুখ বড় ভারি।
বুঝিবা বৃষ্টি নামে গাছেদের চোখে,ভেঙে পড়ে ডালপালা
সাজানো বাগান, তবুও স্বপ্ন আসে রাজপথ মাঝে, উঁকি
দেয় ভাঙা চাঁদ তারারাও ম্লান।
বাহারি পাতার দল জড়িয়েছে মায়ায়, ফুটবে নতুন ফুল
গাছেদের দেহে, কিনে নেব মৃত্যু আকাশের চাঁদ, উঠবে
নতুন সূর্য আসবে প্রভাত।
আমাদের ডুবে যেতে মানা
ডুবে যাচ্ছে মৃত্যু ডুবে যাচ্ছে শোক
ডুবে যাচ্ছে জীবন।
আমরা রোজই ডুবে যাই,
নদী-নালা খাল-বিল বাওর সমুদ্রে।
আমাদের জাত নেই, নেই ধর্ম।
আমরা সাধারণ, আদি প্রস্তর যুগ হতে
নব্য সভ্যতার যুগেও।
আমরা তবুও ভেসে থাকি,
শত উপেক্ষা আর বঞ্চনাকে পিছে ফেলে।
আমাদের ডুবে যেতে মানা।
সুখ পাখি
ঝাড়বাতিটাও ভেঙে পড়ে যায়
নিভে যায় প্রদীপের আলো,
সময় সমুদ্র মাঝে শ্যাওলারা বাসা বাঁধে রোজ।
শত শত চেনা মুখ
নিমেষে নিরুদ্দেশ, সুখ পাখি খুঁজে ফেরে পথে;
আমিও প্রদীপ জ্বালি গহীন আঁধার রাতে একা।
কালপেঁচা ও শকুন
ক্রমশ গভীর হচ্ছে রাত
কালপেঁচার চোখ বারুদের মত জ্বলছে।
ওরাও দৌড়াচ্ছে খালি পায়ে রাস্তা দিয়ে।
ওরা আজন্ম দৌড়ায় রোজ
সমতল পাহাড় নদী সাগর অরণ্য তুচ্ছ করে।
রাত্রি শেষে কালপেঁচারা ঘুমিয়ে পড়ে।
সকাল হতেই শকুনের তীক্ষ্ম দৃষ্টি
ঝাঁকে ঝাঁকে শকুন নামে পৃথিবীর প্রান্তরে।
ওরা জঞ্জাল যত পৃথিবীর ডাস্টবিনে।
ওরা কালপেঁচা আর শকুনের
পেট ভরিয়ে রাখে আজীবন গভীর কর্মযজ্ঞে।
ওরাও বারুদের মত জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।