পত্রসহিত্যে প্রভাত মন্ডল – ৩

পত্র নং – তিন

বৃষ্টি নামুক

প্রিয় প্রভাতী,
সেই জন্মলগ্ন থেকেই তোমাকে দেখার বাসনা এ অন্তরে।প্রতিবারের মত এবারেও শরতের আগমনী সুর বেজে উঠেছে আকাশে বাতাসে।নীলকণ্ঠ পাখিরা ডানা মেলে ছুটে যেতে চাইছে মেঘেদের সাম্রাজ‍্যে।শুভ্র নীল আকাশ পুলকিত নয়নে তাকিয়ে আছে এ পৃথিবীর দিকে।ঠিক যেন ক্ষুধার্ত অজস্র চোখ তাকিয়ে আছে ফসলের ক্ষেতে।
মাঝেমাঝে ভেজা তুলোর মত এলোমেলো মেঘ,সূর্যের সাথে লুকোচুরি খেলছে।ও যেন কত কিছুই বলতে চায়,বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়তে চায়,ছুঁতে চায় এ পৃথিবীর প্রতিটি নদী,পাহাড়,মাঠ-ঘাট সবকিছুকেই – ঠিক আমি যেমন তোমাকে ছুঁতে চেয়েছি আজন্ম,কিন্তু তুমি তো অধরা!শুনেছি তুমি অবিনশ্বর,তুমি অনন্ত,তুমি মায়াময়,তুমিই বসুন্ধরা,তুমিই মা আবার তুমিই প্রেয়সী।তাই শত দ্বিধা ভুলে তোমাকেই ডেকে চলি বারেবার :
একবার দেখা দাও পৃথিবীর বুকে
একবার ফিরে এসে হাতখানি ধর,
চিরতরে মুছে দাও ভেদাভেদ যত
মানবতা দিয়ে তুমি খেলাঘর গড়।
জান প্রভাতী,এই মেঘই তো একসময় সাহারার বুকে ভেসেছিল,অনেক কুণ্ঠা,অনেক কৃপণতা নিয়ে!তবু বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়েনি ও কখনো।কি জানি কেন এত অভিমান!ওই মেঘই তো বাংলার নদীকে আজ যৌবনবতী করে তুলেছে :
ভাসছে শরৎ মেঘ জুড়িয়ে নয়ন
হাসছে শরৎ মেঘ ঝরিয়ে শ্রাবণ,
ভাসছে যৌবন নিয়ে হাসছে তটিনী
হাসছে অঝোরধারে শরতের রাণী।
এ পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের মধ‍্যেই তো বৃষ্টি আছে,মানবতাবোধের বৃষ্টি,তবে কেন এত কৃপণতা?কেন এত ভেদাভেদ,এত হিংসা,কলুষতা,হানাহানি,রক্তপাত।মানুষের হৃদয় মন্দিরে কেন এত মেঘেদের সম্ভার,মেঘেরা কেন বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়েনা!যুগযুগ ধরে মানুষ কি এমনই কৃপণ থেকে যাবে?সাহারার মত শুষ্ক রেখে যাবে এ মানবভূমি!
প্রভাতী!আমি দীর্ঘ প্রতিক্ষায় পথ চেয়ে আছি,মরুদ্যান হতে সাগরের বুকে তাকিয়ে থাকি অপলক চোখে,জানি বৃষ্টি নামবে এ পৃথিবীর বুকে,জানি :
একদিন দেখা হবে এ মাটির ঘরে
একদিন দেখা হবে সূর্যের দেশে,
একদিন তুমি আমি হাতে হাত রেখে
মিটাব ক্ষুধার জ্বালা তোমারই পরশে।
ইতি,
প্রভাত মণ্ডল
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।