সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে পিয়াংকী (পর্ব – ২১)

স্টেশন থেকে সরাসরি
ইংরেজি ৮ই নভেম্বর ২০২১
বাংলা ২১শে কার্ত্তিক ১৪২৮
সোমবার
আসলে নিঃস্ব হতে গেলে ঠিক কতটুকু বিলিয়ে দিতে হয় এটা ভাবতে বসলে কেটে যায় কার্ত্তিক, কেটে যায় হেমন্তের সকাল।গাঙচিলের গোঙানি শুনিনি কখনো তবু যেন জলের, খাঁচা ভেঙে কেও উঠে এসে বলে “রোদ্দুরে দাঁড়াও”।
আমি থমকে থামি।খেই হারিয়ে হাবুডুবু খেতে বলেছিল যে বান্দা আজকাল আর আমার জানালার ধারেকাছে সে আসে না,গা ঢাকা দিয়েছে কুয়াশায়। ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যেস চলে গেছে অনেকদিন আগেই তাই সনাক্ত করব এমন ভাবনাকে আলমারির ওপর তুলে দিয়ে নেমে আসি সাবধানে
কোনো এককালে দক্ষিণের দরজায় পেরেক ঠুকে কাঠের ভুষি আর ফেভিকল মিশিয়ে গ্যাটিস আর উত্তরের বারান্দায় অর্কিড পুষত যে আজও প্রতি সন্ধ্যায় তার নামেই মোমবাতি জ্বেলে নাক সিঁটকে সরে যাই পশ্চিমের ঝুলঘরে। কপালপোড়া বলে হাজার অছিলায় ডেকে উঠতাম যাকে তেমন করে আর একটিও জন্মাবে না এ’জন্মে… তাই শিশিরের টুপটাপ শুনতে পাই না ইচ্ছে করেই,বলা ভাল কানে তুলোর গোল্লা পাকিয়ে রাখি,প্রবেশ নিষিদ্ধ
ঠিক সেই মুহূর্তেই অহংকারী হেমন্ত ছুঁড়ে দেয় দুটো স্থলপদ্ম আর গোটা আষ্টেক শিউলি। ধরে রাখা যাবে না,একার করে রাখা অপরাধ। হরিরলুট দিতে হবে।এতকিছু ভেবেই গুটিয়ে নিই গা হাত পা। প্রিয়কে কি দান করা যায়?সন্ন্যাস কি শুধুই শ্লোক বনবাস?
অক্টোবর দৌড়ে পালায়,কিছু বাদামি শুকনো পাতা হাওয়ায় ওড়ে,শিরশির করে শিড়দাঁড়া।কাঁপুনি লাগে, ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের উপায় খুঁজি যত্রতত্র,
মায়াবী সুন্দরীর মত নিজেকে চুপ করে দেখি রোজ।আশ্বিন আসে, সদরঘাট খুলে রেখে কার্ত্তিক চলে যায়। আমার চোখের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে একসময় মিইয়ে যায় আয়নাও
এভাবেই ফেরবার ঘর বানাই,নিজে হাতেই দেওয়াল ভাঙি,একজোড়া হলুদ চোখ আবারও ঘরমুখো করে আমাকে।তাকে ঠেস মেরে বলি, ” তু হোগা জরা পাগল তুনহে মুঝকো হ্যায় চুনা ক্যায়সে তুনহে আনকাহা তুনহে আনকাহা সব শুনা”