T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় প্রদীপ কুমার দে

এবং শারদীয় কথা

সকাল বেলাতেই চেঁচামিচি, হৈচৈ–রৈরৈ, ব্যাপার–স্যাপার। ঘুম ঘুম অবস্থা থেকে পঁই–পঁই করে উঠে পড়া, আবার বসা, তারপর ধড়ফড় করে বারান্দা–ঘর, ঘর–বারন্দা। রাস্তায়–ফাস্তায়, লোকে–লোকাকার। ভিড়ে ভিড়–ভিড়েছে, এসে–মিশেছে, একাকার– আমাদের এই সেই তস্যগলির–কুমোরটুলির অলি-গলি, ঘুল-ঘুলিতে।

কুমোর পাড়ায় বাস, এর থেকে আর বেশী কি চাস? ঠাকুরে-বাকুরে, মাটিতে–কাদাতে একবারেই অবস্থা–ব্যাবস্থার, হাঁসফাঁস। খড়–কুটো, মুটো–মুটো, দঁড়ি–মরি, বাঁশ-ফাঁস, চলা–ফেরা, যাতায়াত কাজে– অকাজে, ভিড়ে–ভরে, জটিল– কুটিল আশ্বাস–বিশ্বাস, প্রশ্বাস–নিঃশ্বাস হয়ে ওঠে একেবারে নাভিশ্বাস !

তদন্ত–ফদন্ত, হন্তদন্ত–মন্ত্রফন্ত্র সব ধুলিষ্যাৎ।
পরে বলছি কেন লিখছি এই কথা, ব্যাঙের–মাথা আমার লেখা–চোকা, আকাঁ–জোকা , ক্লিক–ক্লিক, শব্দে-জব্দে কানের ভোঁতা–মাথা!

হলো না কিছু, রতনের ছেলেটারে কামড়ালো–আঁচড়ালো এক বড়-সড়, হাজি–পাজি বিছে! শুধু নয় তাই, শোনো ভাই, এখানে–সেখেনে, মাছি–মশা, আরশোলা– মারশালা, টিকটিকি-গিরগিটি, ইঁদুর-ছুচো, লেঙটা–লেঙটি, হাস– মুরগী, গরু– শুয়োর আর মানুষের–অমানুষের, আশ– আবাস, নিবাস–সহবাস!

কথা ছিল, চলছিলো হবে–তবে, ভবে–সবে বড় কিছু, কিন্তু হয়ে আসু–শিশু, টেবিলে–টুলে, আসনে–বসনে, ফাইল চালা–চালি, খালি–খালি হেঁজরালি–হাঁতরালি, বিশ্বরানী হবে কুমারটুলির যতো সন্ধি–ফন্দি হলো শেষে ফাইলবন্দী!

তিন– তিনটি তদন্তকারী দল বলে, চল–চল করে, দল–ঢল নামায়-পাড়ায়। উঁকি–ঝুঁকি , মারি–খালি, তবে কি উদ্ধারিবে, কোটি–কোটি, লাটঘাট নোটের, আন্ডিল–বান্ডিল ?

বারান্দায় যখন আমি আসি, তখন গিন্নি যায়, গিন্নি এলেই আমি যাই, লুকোচুরি–ফুলঝুড়ি, আনাই–বানাই, ইকির–মিকির, চামচিকির, নানান জলে– কতুহলে, বলে- বলে, শুধরাই -জানতি চাই, নাড়ি –ভুড়ির খবরাখবর যদি-পাই, এর-ওর মুখে।

একজনই তায় বিশ্বাস–অবিশ্বাস মিলিয়ে বলে যায়, জানায় ওসব কিছু নয় তল্লাশি চলে মোষের তরে– কুমারটুলির ঘরে–ঘরে, যদি পাওয়া যায় অমূল্য– রতন, মনের– মতোন।
উড়াইয়া দেখো–ছাই, তবে–তাই যদি কিছু পাই।

তেমন কিছুই নাই! অসুর আছে, কিন্তু মোষ নাই অথচ মহিষ থেইকেই অসুর ভাই, নাম মহিষাসুর ভাই! দুর্গা আছে, সিংহ–ফিংহ সব আছে, নাই — তাই, মহিষ অথচ অসুর-ফসুর জলজ্যান্ত। তাইলে- নইলে, অসুর কোথা হইতে জুটলো–আসলো ? মানুষ-ফানুস মেরে–কেটে তো আর অসুর বার – ফার হয়নি–রয়নি। মানুষের মধ্য–সদ্য অসুর কি তালে–তলে–তলে কি করে জন্মে–কর্মে?
গন্ডগোল-ফন্দোগোল তাহলে অন্যখানে-মাঝখানে আছে নিশ্চয়–ফিশ্চয়। কেন্দ্রীয় নামকরা-ঘুনধরা টিম বলে, ছলে– বলে কৌশলে, চলে এসেছে – এখানে।
তন্য–তন্য করে এই অরন্য খোঁজা–খুঁজি করছে — চলছে।
বাড়ি–বাড়ি, ঘর–দোর, তালা–খোলা, ভাংচুর–দূর –দূর, কিছু নাই, বেকার তাই। খাট–আলমারি ছাদ–বাথরুম ডুম -ডুম, টাক–ডুম। কোথা গেল সেই মাথা–মাথা? মাথাদের পাচারে, বর্ডারে –খবরে, হাপিত্যেশ বদ্দিবুড়ো–ছোট থেকে–বড় খুড়ো, একেবারে নাজেহাল–পয়গাল!

সারাদিন — দিন দিন, রাত–দিন, বছর্–ফছর, কাটে–সপাটে, তাক্–ধিন, লাগ–লাগ ভেলকি লাগ — চুলায় যাক অসুরের মোষ — যত দোষ — সবটাই ব্যাটা ওই –ভাই, নন্দঘোষ!

মানহুষ–মানুষ, সর্বভূখ–পায় সুখ, খেয়ে–দেয়ে, ঢেকুর তোলে–গন্ধ ভুলে, হজমের–মহিষের, ফাঁকি দিয়ে–সবারে, মারে এক স্বপনের ঘুম — বুমবুম, দেয় সুখটান –ভেঙে রহস্য, হয়ে– যায়, খান–খান!

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।