সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে প্রদীপ গুপ্ত

বাউল রাজা

দ্বিতীয় খন্ড ( অষ্টম পর্ব )
বাতাস ধীরে ধীরে ঝড় হতে শুরু করলে সে ঝড়কে সামলে নেওয়া সহজ, কিন্তু হঠাৎ করে একজন মানুষ যদি সাইক্লোনের মধ্যে এসে পড়ে তাহলে সে বেসামাল হয়ে পড়ে।
কানাইদা একের পর এক বিষয়কে বিস্ময় বিস্ফারিত করে তুলছে। সে ঝড়ের সামনে দাঁড়িয়ে আমি যেন একেবারে বেসামাল হয়ে যাচ্ছি। কৃষ্ণভামার দু’চোখের তারায় আমি যে আমাকে আবিষ্কার করেছি, সেটা তো কানাইদার জানার কথা নয়। কারণ সে তো দৃশ্য, অন্তর্দৃষ্টির একটা স্বপ্নিল ভাব। সে দেখায় কোনো বাক্য উচ্চারিত হয়নি, কোনো শব্দ শব্দায়িত হয় নি, কোনোরকম তরঙ্গেরও সৃষ্টি হয় নি।
না, এটা বোধকরি ঠিক বলা হলো না। কোনো তরঙ্গেরই কি সৃষ্টি হয় নি? ভাবতরঙ্গও তো এক তরঙ্গ, সেই মূহুর্তে যে ভাবের ঢেউ উঠেছিলো আমাদের দুজনের মনের গভীরে, সে ঢেউয়ের আঁচ তো পেতেই পারেন কানাই বাউল। কিন্তু সেজন্য কি ভাবসমাধিতে নিমজ্জিত না হয়েও —
কানাইদা যে কোনও সাধারণ সাধক নন সেটার পরিচয় আগেও অনেকবার পেয়েছি, এবারও ফের একবার পেলাম। কৃষ্ণভামা যে ওর সাধনসঙ্গিনী সেটাই কি বাউলনির একমাত্র পরিচয়? ওদের ভেতর এতো দীর্ঘ যাপনে অন্য কোনও সম্পর্ক, ভাব ভালোবাসা, প্রেম, প্রীতি, নির্ভরতা এসব কি কোনও কিছুই গড়ে ওঠেনি? সেই অর্থে বাউলনির চোখের তারায় কি কানাইদার মুখ কখনও কৃষ্ণ হয়ে ভেসে ওঠেনি? কানাইদা হয়তো বাস্তবার্থে চক্ষুষ্মান নন, কিন্তু অন্তরস্থ নয়নের দীপ্তিতে তিনি যে অসম্ভব রকমের দীপ্যমান সে পরিচয় আমি আর কতোবার পাবো? তাহলে সে দৃশ্য কি তিনি কৃষ্ণভামার চোখে…
আচ্ছা, মানুষ কতোটা সাধক হলে আমি বাউলনির চোখের তারায় কী দেখলাম, সেটা উপলব্ধি করতে পারেন? আমি কি ক্রমেই তাহলে কানাইদার একজন প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াচ্ছি?
–” দ্যাকো পদীপদা, আমার মনে অয়, কন্টিবদল অলো গে একটা দারণা। যে দারণা মনে করে যে, এর পলে বুজি একটা মানুষকে অন্য একজন মানুষের সাতে জুইড়ে দেওয়া যায়। সে অয়তোবা কিচুটা যেতিও পারে, কিন্তু মন যেকানে জুড়তি না চায় সেকানে এমন কোন কন্টি আচে বলো দেকিনি, যে দুটো মনেরে দড়িদড়া দে জুড়ি দেপে? ”
এটা কি নারীবাদী কথা বলছেন কানাই বাউল? আমি একজন নিমগ্ন শ্রোতার মতো ওর মুখের দিকে চাইলাম।
–” মন যকন আরাদ্য দেবতার কন্টলগ্ন অয়, সেটাই তো আসল কন্টি গো ঠাকুর। যে কন্টিতে বাব নেই, পেম নেই, কোনোরকম নিবেদন নেই সে কন্টি তো শুদুই সুতো আর তুলসীকাটে তৈরি মালা গো পদীপদা। শুদুই দ্যাকনদারি। ”
লক্ষ্য করে দেখলাম, কানাইদা যখন ঘরের দাওয়ায়, কালো শিষ ওঠা লম্ফের কম্পমান আলোয় এ কথাগুলো বলছেন, তখন একটু দূরে অন্ধকারের মধ্যে ঠিক যেন একটা ছায়াশরীর হয়ে সোনাঝুরির খুঁটি ধরে পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে বাউলনি। তার দাঁড়িয়ে থাকা শরীরের বিভঙ্গে যে কাঁপতে থাকা ছায়াটা উঠোনে গিয়ে পড়েছে, সে ছায়ায় কখনো তৈরি হচ্ছে একটা বৃক্ষশরীর, কখনও যেন একটা নদীর অবয়ব, আবার কখনও যেন একটা ভাঙাচোরা একতারা।
—” একটা কতা আজ তোমার কাচে স্বীকার করতে মন খুব চাইচে গো পদীপদা। আমি কিন্তু বাউলিয়া সমাজের কোনো গুরুর কাচে দীক্কিত নই গো। আমার কোনও দীক্কাগুরু নেই। চলার পতের কাঁটা, কাঁকর, কাদা,সবকিচু আমায় একাই পেরিয়ে আসতি অয়েচে গো। জানি না তুমি আমায় কী বাবো, আমার জেবন অনেকটা সেই গানের মতোই — শিশুকালে মরে গেলেন মা, গভ্যে রেকেই মরলেন পিতা গুরু চোক্কে দেকলাম না -। তবে একজন মহান মানুষের কাচে আমি বড় অয়েচি। এই যে আকড়া দেকতিচো, এসব কিচুর মালিক চিলেন তিনি। তিনি আর দশজনকে দীক্কা দিলেও আমায় দিয়ে যাননি, তিনি বলতেন – তুই অচ্চিস গে ঈশ্বরের সন্তান, তোকে আমার দীক্কা দেওয়ার অদিকার নেই। বাউলের আকড়ায় বড় অয়েচি বলে আমি বাউল। জন্ম বাউল কিনা সে শুদুমাত্তর তিনিই জানতেন, আমায় ককনোও কিচু বইলে যাননি গো। ”
আমি বুঝতে পারছি না, কানাইদা একথাগুলো আমায় বলছেন কেন? শুধু কি আমাকেই বললেন, না কি অন্যদেরও বলেছেন, হঠাৎ মনে হলো, কথাগুলো কৃষ্ণভামা জানে?
অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ছায়াশরীর কম্পমান দীপশিখার দিকে এগিয়ে আসছে। এসে হাঁটু গেড়ে বাউলের পাশে বসলো সেই শরীর। কানাইদার মুখ তার দুই পানপাতায় ধরে নিজের মুখটাকে নামিয়ে নিয়ে এলো বাউলের মুখের কাছে। পরম প্রেমে বাউলানি তার ডানদিকের গালটাকে চেপে ধরলো বাউলের বাঁ গালের ওপর। আর এক নদী প্রেমাশ্রু বয়ে যেতে লাগলো বাউলানির চোখের সরোবর থেকে বাউলের তোবড়ানো গালের লবণাক্ত হ্রদ ছাপিয়ে।
আমি এ জীবনে নানান জুটির নানা ধরণের অন্তরঙ্গ ভঙ্গিতে একে অন্যকে আদর করতে দেখেছি — সে চলচ্চিত্রই হোক অথবা বাস্তব জীবনে। কিন্তু এতো সুন্দর একটা অপার্থিব অন্তরঙ্গতার দৃশ্য আমি আমার সারা জীবনেও দেখিনি। আনন্দ – দুঃখ, হাসি – কান্নার দোলায় দুলতে থাকা দুটো মূর্তি আমার চোখের সামনে প্রকট হয়ে উঠলো। আমি পরিষ্কার দেখতে পেলাম, এক অনির্বচনীয় ঐশ্বরিক প্রেমের যুগলমূর্তির ছবি। আমি বাউলদিদির চোখের তারায় আমার কৃষ্ণরূপ দেখে হয়তো আহ্লাদিত হয়েছিলাম। আমার সেই আহ্লাদের অনুভূতিকে ম্লান করে দেওয়ার জন্যই কিনা জানি না, আমি এই মুহূর্তে যে যুগলমূর্তি দেখছি সেই মূর্তির দুই চরিত্রের যে একজন রাধা আর অন্যজন অবশ্যই কৃষ্ণ, এ বিষয়ে কোনোরকম সন্দেহের অবকাশ নেই। অবশেষে ওরা যখন ফের নিজরূপে ফিরে এলেন, তখন বারান্দায় ধোঁয়া ছড়ানো লম্ফটার কম্পমানতা আর নেই, তার শিখা স্থির। সেই স্থির শিখায় আমি এমন এক পরিপূর্ণ খুশীর হাসি দেখতে পেলাম ওদের মুখমন্ডলে, যে সেই খুশী যে এই পৃথিবীর বুক থেকে আহরিত নয়, সেটার সাক্ষী যে থেকেছে সে ছাড়া অন্য কারও অনুধাবন করা অসম্ভব।
— ” তুমি তো জানো পদীপবাবু, কিষ্ণকে আমি যকন জয়দেবের মেলায় খুঁজে পেলাম, আমি তকন পূন্ন যুবক আর সে মাটির সাতে কতা বলচে। সে গটনার বচর দুয়েক আগে আমার আচ্ছয় দেওয়া বাবা দেহ রেকেচেন। যাওয়ার আগে তিনি আমাকে একটা কতাই বলে গেচিলেন, — যেহেতু আমি তোমাকে দীক্কা দেইনি, তাই তুমি অন্যান্য দীক্কিতদের মতো বিবাহ কত্তে পারবে না, তুমি কণ্টিবদলও করবে না, তোমাকে অয়তো সিন্দুদান কত্তে অবে। ”
কানাইদা কন্ঠিবদল নিয়ে কথা বলতে আমার মনে পড়লো, আমি বাউলদিদিকে ওদের বিবাহ সম্পর্কিত লোকাচারের বিষয়ে জানতে চেয়ে কন্ঠিবদল সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলাম। কৃষ্ণভামা তখন নিজের অপারগতার কথা জানিয়েছিলো। কানাইদা সেই দায়বদ্ধতা থেকেই নিশ্চয়ই এ প্রসঙ্গকে উপস্থাপিত করছেন।
–” বাউল সমাজে বিয়ের অনেক আচারবিদি আচে গো, ফুল, চন্দন, তুলসী আর গঙ্গাজল দে সাদুগুরু দু’হাত এক কইরে দেন। সাদুগুরু পাত্তপাত্তির গলায় মালা পইরে দিয়ে চন্দনের টিপ পইরে দেন দু’জনাকে। ব্যাস, অয়ে গেলো বিয়ে, যাদের বিয়েতে সাদুগুরু তাকতে পারে না, তারা কোনও মেলায় বা মোচ্চবে কন্টিবদল কইরে নেন। আসলে এই রীতি অলোগে বোষ্টোম বোষ্টুমিদের তেকে এয়েচে। বাউলদের রীতিনীতি অনেকটাই বোষ্টোমদের তেকে নেওয়া। এরা তো ওদেরই অংশ চিলো গো। ”
সত্যি বলতে কি, বাউল গোষ্ঠী সম্পর্কে আমার কোনোরকম কিছুই জানা নেই। এদের মনমাতানো গান, রঙচঙে পোষাক, একতারা আর খমকের মতো সুরেলা বাদ্যযন্ত্রই আমাদের এদের দিকে টেনে আনে। কিন্তু এদের সমাজ, এদের রীতিনীতি, আচার অনুষ্ঠান এসব সম্পর্কে আমরা ক’জনই বা কতোটুকু জানি?
–” আমার পালকপিতা লিচ্চয় জানতেন যে, আমি কিষ্ণা কে কুইড়ে পাবো। একন কেন জানি না মনে লয় তিনিই বুজি সব ব্যবস্তা কইরে রেকে গেচিলেন। নইলে আমাকে সিন্দুদানের পরামশ্য দে যাপেন কেন? ”
–” সিন্ধুদান বিষয়টা কী গো কানাইদা? “
–” দ্যাকো, বিবায়িত মানুষের কাচে মনের সাতে ঘর বাঁদে শরীল। মন মনের সাতে, মনের ওপর যতই নিভভর করুক না কেন, শরীলেরও একটা পাধান্য তেকেই যায়। তবে অবশ্যি পকিত বাউল যিনি, তিনি তো তার আপন দেহেই নারী পুরুষের সহাবস্তান করাতে জানেন। সেক্কেত্তে শরীল তার কাচে মুক্য বিষয় না ওলেও, ইচ্চের আদার। সবসুময়তেই যে সুক্ক কামবাবে যাপন করবেন সে তো নাও ওতে পারে, যকন স্তুল কামবাবে তিনি কাবু, তকন তো সেই শরীলই তার কাচে মুক্ক ওয়ে দাঁড়াবে। ”
উফ কি অসম্ভব বিশ্লেষণ! যেন কথা বলছেন না, এই মূহুর্তে তিনি যেন একজন শিল্পী, কথা দিয়ে ছবি আঁকছেন।
—” কিন্তু সিন্দুদান তোমাকে সে অদিকার দেয় নি গো, শরীলকে নে কোনোরকম চাওয়া পাওয়া সেকেনে শুদু অন্যায় না গো, অধম্য। যকনই তোমার মনে তোমার গহণ করা বাউলনির শরীলকে কামবাবে স্পশ্য করবে, তকনই তুমি বাউল দম্মো তেকে পতিত ওলে।
তিনি লিচ্চয় জানতেন গো, যে কিষ্ণাকেই আমার সাদনার আদার কইরে গইড়ে তুইলতে অপে। আমার মেয়ের বয়সী, আমার নিজির আতে বড়ো কইরে তোলা মেয়েটিকে আমার সাদনসঙ্গিনী কইরে নিতি অপে, এটা তার অগোচরে চিলো না গো পদীপদাদা, এ জন্যই তিনি আমার ওপর বিদিনিষেদ দে গেচেন। খপরদার, নিজের কন্যাকে সাদনসঙ্গিনী কইরে নিতি পারো, কিন্তুক শরীলের ওপর নজর দিতি পারবা না। ”
কৃষ্ণভামার দিকে নজর পড়লো। দেখলাম একজন অপাপবিদ্ধা অনূঢ়া বিবাহিতা কন্যা, তার অমাবস্যার মতো আলুলায়িত কেশরাশির আড়ালে মুখ ঢেকে মাটির দিকে মুখ করে বসে আছে। হঠাৎ যেন মনে হলো, সেই কন্যার লজ্জাশীলা দুটো চোখ আমার চোখের দিকে পূর্ণ দৃষ্টিতে আঁতিপাঁতি করে কিছু খুঁজছে। এখনও সেই দৃষ্টির কথা মনে হলেই মনে হয় — সেদিন সেই বাউলনি কি খুঁজে ফিরছিলো — আশ্রয়?
বাউল রাজা
দ্বিতীয় খন্ড ( চতুর্বিংশ পর্ব )
প্রদীপ গুপ্ত।
–” তুমি আমারই মতন কান্দিও কান্দিও
কৃষ্ণ কৃষ্ণ নাম বদনে জপিও
তুমি বুঝিবে তখন… নারীর বেদন
রাধার এ প্রাণে কতো ব্যথা
বনমালী তুমি, পরজনমে হইও রাধা..
তুমি আমারই মতন জ্বলিও জ্বলিও
শ্যাম কলঙ্কের হার গলেতে পরিও
তুমি পুড়িও তখন — আমারি মতন
বুকে লইয়া দুখের চিতা…
বনমালী তুমি – পরজনমে হইও রাধা.. “
আজ যদি কেউ আমায় জিজ্ঞাসা করে এ গানটা কি তখন কেউ গাইছিলেন কিনা, না কি বাউলনির চোখের তারায় আশ্রয়স্থল খোঁজার যে আকুল আকুতি অথবা সমর্পণের যে ছায়া দেখেছিলাম, সে আকুতি অথবা ছায়াতেই সে মিশিয়ে দিয়েছিলো এই গানের আকুলতা ভরা সুর আমার মনের গহনে।
–” বুজলে গো পদীপদা, কিষ্ণ অচ্চে পরমাত্মার পতীক। আর ছিমতী রাদিকে অচ্চে গে জীবাত্মা। এই যে আমাদের শরীলটা দেকতিচো, এ যেন একটা অসের ভিয়েন গো। কামের দুদের কড়াই তেকে পেমকে ক্ষীর কইরে তুলতিচে। বাউলের জেবনে এই রাদাকিষ্ণের যুগল মিলনও এক সুন্দর বাবের খেলা গো। তাই এতে কোনও পাপ নেই, কোনও অন্যায় নেই। ”
সে জন্যই বুঝি একই চোখের তারায় কখনও আমি নিজেকে কখনও কানাইদাকে কৃষ্ণরূপে আবিষ্কার করি।
হঠাৎ করে মনটা কেমন উচাটন হয়ে উঠলো। কলেজ জীবনে অনেক মেয়ের সাথেই বন্ধুত্ব হয়েছে, কিন্তু প্রেম জিনিসটা আমার জীবনে ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে। বরং প্রেম বিষয়টাকে আমার কেমন যেন বেশ একটু ন্যাকামো বলেই মনে হতো। কিন্তু শুধুমাত্র নয়নঠারের যে কি মারাত্মক শক্তি থাকতে পারে, সে অভিজ্ঞতা আমার জন্য অপেক্ষায় ছিলো। আমি বারান্দা থেকে উঠে খোলা আকাশের নীচে এসে দাঁড়ালাম। আর কি অদ্ভুত, সেই সুরটা ফের ভেসে আসছে। না, গানটা গাইছে না কেউ, এক অপূর্ব মহিলা কন্ঠে অনুরণিত হচ্ছে সেই সুর। বাউলনির গলা আমার কাছে পরিচিত, এ তার গলা নয়, সামনের দিকে তাকালে মনে হচ্ছে গানটা সামনের দিক থেকে ভেসে আসছে, ডান বাম ছেড়ে খোলা আকাশের দিকে চাইলাম, মনে হলো সেই সুদূর নক্ষত্রলোক থেকে এক অতি ক্ষীণ সুরে কোনও নক্ষত্রসুন্দরী বুঝি গাইছে গানটা —
–” তুমি আমারি মতন জ্বলিও জ্বলিও
বিরহ কুসুম গলেতে পরিও
তুমি যাইও যমুনার ঘাটে
না মানিও ননদীর বাধা
বনমালি তুমি.. পরজনমে হইও রাধা -“
কোন ব্যথাতুর নারী তার মনোব্যথার কথা এমন আকুতিভরা ভাবে আমায় শুনিয়ে যাচ্ছে! অথচ এ সংগীত তো আমার পূর্বশ্রুত না! আমি জীবনে কোনোদিনই এই অপূর্ব কাতর সঙ্গীতের বেদনাবিধুর কথা শুনিনি! তাহলে? এটা কি ভাববিস্তার করা? একজনের মনের ভাবকে অন্য একজনের মনের ভেতর তরঙ্গায়িত করা? কোন্ সাধনার বলে এ জিনিস সম্ভবপর হবে? ছায়াচ্ছন্ন চাঁদের আলোয় প্রকৃতির মাঝে আমি এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি, খেয়াল করিনি আমার এ চিন্তার মাঝে কখন কৃষ্ণভামা আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।
–” তুমি একেনে আর এসোনি গো ঠাকুর। পেমের কুহকজাল তোমারে বেদে ফেলপে। তুমি কিন্তু মনে কোরো না এই হতভাগিনী বাউলানি বুজি তোমারে তোমার সংসার তোমার সমাজের তেকে পতিত কইরতে চায়। তুমি বড়ই চেলেমানুষ গো ঠাকুর, বড্ড চেলেমানুষ। নদীর পাড়ে বইসে গা দুয়েচো, মাজ নদীতে ডুব দে দেকোনি ককনও জলের বুকে চোরাটানের শক্তি কতোটা। রাত অনেক হইয়েচে, ছুটকি বিচানা দেচে , শুতে চলো কেনে। “
( চলবে )
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।