T3 || লক্ষ্মী পুজো || সংখ্যায় প্রদীপ গুপ্ত

শিউলিফুলের রং
উত্তেজনায় সারারাত ঘুমোতে পারেনি সুক্তি। সন্ধ্যাবেলা বাবার সাথে বাজারে গিয়ে লক্ষ্মী ঠাকুর, ফলপাকড়, ময়দা, সুজি, সেমাই, ঘুরেঘুরে আরও কত কি যে কিনে এনেছে ও। বাবা সুক্তির পছন্দমতো একটা ঠাকুরও কিনে এনেছেন। আর কিনেছেন ক্যামেল কোম্পানির একবাক্স রং আর চার চারটা বিভিন্ন নাম্বারের তুলি।
— ও বাবা, কখন আলপনা দেবো আমরা?
— তুমি কি কাল ভোরে শিউলি কুড়োতে যাবে?
— হ্যাঁ যাবো তো। ও বাবা, আমাদের স্থলপদ্ম গাছটা দেখেছো? কুঁড়িতে কুঁড়িতে ভরে আছে।
— আর টগর গাছটা দেখেছিস? যেন এক আকাশ তারা। কী সুন্দর তাই না?
— হ্যাঁ গো বাবা, আর দোপাটি গাছগুলোও একেবারে ঝাপসা হয়ে আছে।
— সেটাই জানতে চাইছিলাম। তুমি কি কাল ভোরে ফুল তুলতে বাগানে যাবে।
— হ্যাঁ, যাবো তো। ঝুড়ি ভরে শিউলি তুলবো।
— তাহলে কিন্তু তাড়াতাড়ি খেয়ে নিয়ে শুতে চলে যাও।
— আর আলপনা?
— সেটা আমি রাত জেগে আঁকবো।
— ও বাবা, প্লিজ, আমিও আঁকবো আলপনা।
— রাত জাগলে কাল আর পুজো দেখতে পাবে না। ঘুমিয়ে পড়বে।
— বাবা প্লিজ, আমি কাল সকালসকাল স্নান করে খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে নেবো, তুমি দেখো —
এখন মনে হচ্ছে বটে কিন্তু কাল সারাটাদিন তুমিও ঘুমোতে যেতে পারবে না। মায়ের হাতে হাতে জোগাড়যন্ত্র করতে হবে না?
— আমি ঠিক পারবো। তুমি দেখো —
পুরোহিতের ঘণ্টাধ্বনি আর মায়ের উঁলুর আওয়াজে ধরমর করে উঠে বসলো সুক্তি। কতক্ষণ ধরে কে জানে বাবা সমানে ওকে ঠেলছেন আর বলে যাচ্ছেন —
— সুক্তি — এই সুক্তি উঠবি তো, অঞ্জলি দিতে হবে না?
চোখ ডলতে ডলতে উঠে বসলো সুক্তি। সারারাত বাবার সাথে আলপনা দিয়ে ঝুড়ি ভরে শিউলি তোলার কথা ওর মনে আছে, তারপর কখন যে —
দুহাত ভরা শিউলির বোঁটার হলদে ছোপে করপুট ভরে ফুল তুলে নিলো সুক্তি —
–” নমস্তে সর্বভূতানাং বরদাসী হরিপ্রিয়ে – যা গতিস্তত প্রপন্নানাং সামে ভূয়াত্মদর্চনাৎ।
এইবারে হাত জোড় করে প্রণাম করুন মায়েরা —
ওম বিশ্বরূপস্য ভার্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে — সর্বতো পাহিমাং দেবী মহালক্ষ্মী নমহোস্তুতে —
কী সুন্দর করেই না মা সাজিয়েছেন মা লক্ষ্মীকে। সুক্তি একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে আর পুরোহিত বলে চলেছেন — এতে গন্ধেপুস্পে নমো – বিষ্ণোবে নমো — নমো কুবেরায় —-