সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ৪০)

সুন্দরী মাকড়সা

— সত্যি বলতে কি, বিয়ের পর বেশ কয়েক বছর পর্যন্ত দিদি আর জামাইবাবুর সম্পর্কটা বেশ ভালোই ছিলো। চারপাঁচ বছরেও ওদের কোনো ছেলেপুলে না হওয়ায় দিদির শাশুড়ি জামাইবাবুর কানে সমানে মন্ত্র পড়তেন। যদিও জামাইবাবু হয়তো মাসে – দুমাসে দুএকবার গ্রামের বাড়ি যেতেন।
— ও, আপনার জামাইবাবুর দেশের বাড়ি ঠিক কোথায় মিষ্টার ব্যানার্জী?
— জামাইবাবু নবদ্বীপে ওদের বাড়িতেই বিয়ে করেছিলেন। যতদিন কৃষ্ণনগরে ওর অফিস ছিলো ততদিন বাড়ি থেকেই যাতায়াত করতেন। এরপর বছর না ঘুরতেই, কলকাতায় বদলি হলে এখানে বাড়ি ভাড়া নেন।
— আচ্ছা, কোন ডিপার্টমেন্টে…
— ফুড। আর কলকাতায় পোষ্টেড হওয়ার পর বছর তিনেক বাদে থেকেই ওর অফিসের একজন কলিগের বৌএর সাথে…
— তা সেই কলিগের বাড়ি কোথায়?
— সামনেই, কংগ্রেস নগর। কলকাতা ট্রান্সফার হওয়ার পর জামাইবাবু কালিঘাটের যে বাড়িটাতে ভাড়া থাকতেন, মহিলার সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠতে কালিঘাটের বাড়ি ছেড়ে এই বাড়িতে এসে ঘাঁটি গাড়েন।
— আপনার দিদি কি ওদের সম্পর্কের বিষয়টা জেনে গেছিলেন?
— জেনে গেছিলেন নয় ধরে ফেলেছিলেন। সেদিন দিদি আমাদের বাড়ি এসেছিলেন, আমার ছেলের জন্মদিন ছিলো। জামাইবাবুকে বলা ছিলো দিদি সেদিন বাড়ি ফিরবেন না।
আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জামাইবাবু…
— বুঝেছি, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তোমার জামাইবাবু তার সেই প্রেমিকাকে নিয়ে…
— এক্সাক্টলি। দিদি ওদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেছিলেন।
— আর সেই থেকেই…
— না, সেই থেকেই না। আমার দিদির প্রতিবাদ করার অপারগতার কথা জামাইবাবু জানতেন। দিদির আসলে কিছু করার ছিলো না। আমি ওকে বলেছিলাম আমার কাছে এসে থাকতে, কিন্তু দিদি একদমই নিজের অধিকারের জায়গা অতোটা সহজে ছেড়ে দিয়ে আসতে রাজী হননি।

ক্রমশ

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।