কবিতায় বলরুমে প্রদীপ গুপ্ত

পোষ্টকার্ড
আমায় সেই পদ্মের কুঁড়িটাকে দিবি?
কাল যেটা ফুটেছিলো আলোর ইশারায়!
সেই আলোটাকেই দে নাহয়।
অথবা সেই জলফড়িং
যেটাকে ধরতে গিয়ে তুই ভিজিয়ে ফেলেছিলি
তোর পিঠকাটা নতুন গোলাপি ফ্রকটা,
আর ভিজে গেছিল তোর ববছাঁট চুল।
কলমির দামের পাশে তোর সেই হাবুডুবু খাওয়া
দেখে আমি হাততালি দিয়ে উঠেছিলাম।
কি বোকা ছিলাম আমি!
তুই ডুবছিস — আর আমি —
অথচ সেই আমিই একটু পরেই যখন টেনে
তুললাম তোকে জল থেকে,
তুই ঠাস করে আমার গালে —
এরপরেই জড়িয়ে ধরেছিলি
বলে উঠেছিলি — জলে ডুবেছিস কখনও,
আমি কিন্তু তোকে ফেরৎ দেবো বলে
সেই পোষ্টকার্ডটা রেখে দিয়েছি যত্ন করে।
তুই লিখেছিলি, ” জানিরে তোকে বললেই তুই
ঠিক ছুটে আসবি একগোছা গোলাপ নিয়ে।
কিন্তু আমি যে বাড়িতে যাচ্ছি এ গোলাপ
টিকবে না একদিনের জন্যেও। ওদের লনে
গোলাপের বাগান। ”
তুই শুধু গোলাপের তোড়াটা দেখেছিলি!
আমার বুকের ভেতর যে গোলাপ ফুটেছিল শুধুমাত্র তোর জন্যই সেটা —
আমি জানিরে
সে পোষ্টকার্ডটা দেখালে তোর দুচোখ ভেঙে
শাওনের ঢল নামবে। তুই আমার বুকে মাথা
রেখে —-
কিন্তু আমার পাঞ্জাবিতে যে এখন জ্বলজ্বলে
সিঁদুরের দাগ।
সেই সব দিনগুলো আমি তোকেই দিয়ে দিলাম
ফেরৎ চাই না আর —
তুই নাহয় সেই সময়গুলোকে নিয়ে
একটা অশান্তির কুঁড়েঘর বানাস।