সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ২৯)

সুন্দরী মাকড়সা
শেয়ালগুলো ওদের চিৎকার থামিয়ে দিয়েছে অনেকক্ষণ হলো। ভাঙা দেওয়ালটার ওপারে বেশ কিছুটা দূরে ধোয়ার কুণ্ডলী কিছুটা উঠে বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে। বোধহয় কোনো চায়ের দোকানি তার উনুন ধরাচ্ছেন। পূবের সোনালি আলো ফের গোধূলিতে ফেরৎ নেবে ভেবে পৃথিবীর বুকে সোনা গচ্ছিত রেখে রূপোলি হয়ে উঠেছে।
ঘরে ঢিল এসে পড়ার পর বেশ কিছুটা সময় ওরা দুজনের পিঠে পিঠ দিয়ে বসেছিলো। ঋষি পিঠটাকে সামান্য নাড়া দিতে স্নেহা সচেতন হয়ে ওর পিঠটাকে সামান্য আলগা করে নিলো।
চেয়ারটাকে আলমারির কাছে নিয়ে এসে চেয়ারটার ওপর উঠে দাঁড়ালো ঋষি। কিছু যেন খুঁজে ফিরছে ওর হাত।
— তুমি ঠিকই বলেছিলে স্নেহা, বিবর্ণ কাগজের টুকরোগুলো নেই। আমি একটা ছোট্ট নোটবইয়ের ভেতরে ওগুলোকে এখানে রেখে দিয়েছিলাম। তবে আমার সবকটা চিরকুটে লেখা কথাগুলো পরিষ্কার মনে আছে।
— তার আর প্রয়োজন পড়বে না। ওগুলোকে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ নথি ভেবে খুনী ওগুলো নিয়ে নিয়েছে। তবে একটা বিষয়ে আমি পাক্কা, যে খুনী যেই হোক, সে সেরকম চতুর নয়। তাহলে বেড়ালটাকে মেরে ফেলতো না। এছাড়াও সে আমাদের ভয় পেয়েছে।
— বেড়াল মারা না মারার ওপরে চাতুর্য কীভাবে নির্ভর করে? তাছাড়া আর একটা কথা, ভয় পেলেই মানুষ হিংস্র হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে মানুষ আর পশুর ভেতর খুব একটা পার্থক্য নেই। নির্ভয় মানুষ কোনো কিছুরই পরোয়া করে না। আচ্ছা স্নেহা তুমি কী করে বুঝলে যে কাগজের টুকরোগুলো চুরি হয়ে গেছে ?
— It’s just an intuition. rather you can say a reflection of the sixth scenes. সবকিছুই ব্যাখা যোগ্য হয় না। যেরকম আমার মনে হচ্ছে যে মহিলাকে মেরে ফেলা হয়েছে তার শরীরের কিছু অংশ যেখানে বেড়ালটা মাটি খুঁড়তে গেছিলো সেখানে পুঁতে রাখা আছে। আর বাকী অংশটা… আচ্ছা ঋষি তুমি কখনও কি এই বাড়িটাকে ঠিকঠাক মতো দেখেছো? I mean, do you observe it properly? come on rishi, get up. আমার মনে হয় আমি ঠিকঠাক গন্ধটা পেয়ে গেছি।
— গন্ধ! কিসের গন্ধ স্নেহা?
— পচে যাওয়া শরীরের গন্ধ।
ক্রমশ