সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ২৬)

বাউল রাজা
তৃতীয় খন্ড
— তুমি কি কালকেই চলে যাবে ঠাকুর?
— তুমি না বেঁধে রাখলে…
— আমার বাঁদনের কতোটুকু আর জোর আচে, যে সে বাঁদন দে তোমারে আটকে রাকবো?
— সব বাঁধনের শক্তি কি আর সমানভাবে মালুম হয় গো বাউলদিদি! সাগরকে চাঁদ যে বাঁধনে বেঁধে রেখেছে সে বাঁধনের শক্তি বোঝা যায় জোয়ার ভাটায়। চাঁদ যখন টান মারে তখন মিলন হবে না জেনেও নদীর বুকে কীরকম বান ডাকে দেখেছো? ডাক ছেড়ে অন্ধ আবেগে ছুটে গিয়ে ফের… আচ্ছা বাউলদিদি, একটা সত্যি কথা বলবে?
— ঠাকুর, সত্যি যেকানে পেমের রশিতে বাঁদা, সেকানে আর মিত্যের অবকাশ থাকে? কও দেকি?
— আমারে যখন চোখের সমুখে দেকতে না পাও, তকন মনের ঘরের পিঁড়েতে কারে বসাও, শোনার বড় লোভ হয়।
— ঠাকুর, চোক আর মন এই দুয়ের সহবাস বোজার জন্য লালন একটা গান বেঁদেচিলেন। তুমি নিচ্চয় সে গান শুনেচো গো, না শুনলেও সে গূঢ় কতা তোমার জ্ঞানেও আচে গম্যিতেও আচে।
— আহা, শোনাও না গো সে গান, তোমার গান শুনলে আমার মন যে কোন তারার দেশে গিয়ে ঘর বাঁধে!
— পদীপদাদা, তোমারে সে গান শোনানোর অদিকার আমার নেই গো। মনের কতা মুকে বলতে মানা। তবে তোমার যকন শোনার ইচ্চে জেগেচে তকন সে গান অবিশ্যি তুমি শুনবে। তোমার মনের কতা যিনি তাঁর নিজের মনে দারণ করতে পারেন, তোমারে এ গান শোনানোর হকদার সেই তিনিই।
— তোমাদের কথা বুঝতে হলে সাতজন্ম তপস্যা করতে হয়।
— এই দ্যাকো, সে সাত জন্ম তো তুমি পার করে এসেচো গো। নইলে আমার সাতে তোমার দেকা হপে কেন? সাতজন্ম আগে আমি চিলাম অরুন্ধতী আর তুমি চিলে…
— আমি একদিনও না দেখিলাম তারে
আমার বাড়ির কাছে আরশিনগর
ও এক পড়শি বসত করে…
অতিদূর থেকে যেন তারাদের দেশ থেকে সুর ভেসে এলো। কানাই বাউলের কণ্ঠস্বর। আহা কী অপূর্ব আবেদন মাখা সুরে ভেসে আসছে কথাগুলো।
চলবে