সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ৪)

স্ট্যাটাস হইতে সাবধান

ফুলটুসি বৌদি রাজহাঁসের মতো চালে চলে যাচ্ছেন। হজা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে আর নিজের আঙুল নিজেই কামড়াচ্ছে। কি বলে গেলেন মহিলা, হজা রিক্সাও চালাতে জানে না? বেশ হজা যদি প্রমান না করতে পারে যে ট্রাক ড্রাইভার তো বাচ্চা, মালগাড়ি চালানোতেও সে পিছপা হবে না তাহলে হজা… , তাহলে…

এক মুহূর্তও দেরী করা চলবে না। আজ রাতেই কিছু একটা ব্যবস্থা করতেই হবে তাকে। পেছনের পকেট থেকে মানিপার্সটা বের করে টাকাগুলোকে গুনে দেখলো হজা। তিনশো চুয়াত্তর টাকা। এক্সিলেন্ট, নিজের মনে নিজেই একটা সিটি বাজালো হজা। মুচিবাগান রিক্সাস্টান্ড থেকে একটা রিক্সা নিয়ে কুঁকড়ে গলিতে বাংলার ঠেকে যাবে বলে রিক্সার সিটের ওপর পায়ের ওপর পা তুলে, আয়েস করে একটা সিগারেট ধরালো হজা। রোজ এসময়ে রাজেশ বাংলার ঠেকে বাংলা খেতে ঢোকে। রাজেশকে যে ভাবেই হোক ম্যানেজ করে খেন্তির কুকুর খাওয়ানো বন্ধ করতেই হবে। আর খাওয়ার অভাব হলেই ব্যাস। কুকুরের বাচ্চাগুলো কুইকুই করে হাজির হয়ে যাবে ফুলটুসি বৌদির… উফ্, আর ভাবতে পারছে না হজা। ট্রাক ড্রাইভার! হজা দেখিয়ে ছাড়বেই যে ওই সামান্য…

— হরিবাবু, রাজেশ কোথায় বসে গো?
— বাঁদিকের বকুল গাছের তলায় যে চানাছোলার ঠেকটা আছে সেখানে।
চুলগুলোর ভেতর আঙুল চালিয়ে চুলগুলোকে একটু ঠিকঠাক করে নিলো হজা। তারপর এগিয়ে চললো বকুলগাছটার দিকে।
— আরে রাজেশভাই, তোমাকেই তো খুঁজছিলাম হে। একটা খারাপ খবর আছে।
মাল খেয়ে চুর হয়ে থাকা রাজেশ, চোখদুটোকে বড় বড় করে বক্তার মুখটাকে ঠাহর করার চেষ্টা করলো।
— কে? হজাদা? কী খারাপ খপর গো দাদা, খেন্তিটা টেঁসে গেচে বুজি? উফ্,কী আনন্দের খপর দিলে গো দাদা। তোমার মুকে ইংলিশ মাল পড়ুক।
— আরে ধুস, ক্ষেন্তি মরবে কেন রে? মরেচে তো দুটো কুকুর। মুখে গ্যাঁজলা উঠে পাশের ওয়ার্ডের একটা ড্রেনে মুখ থুবড়ে ভেটকে আছে। সবাই পাশের কাউন্সিলারের কাছে গিয়ে নালিশ জানিয়েছে যে খেন্তির দেওয়া খাওয়ারে নাকি বিষ ছিলো, আর তাতেই, কাউন্সিলর থানায় খবর দিয়েছে, এখুনি পুলিশ এসে তোকে ধরে নিয়ে যাবে।
— নিয়ে যাক শালা, লক আপে ভরে দিক খেন্তিকে। কদিন থেকে বুজুক। শালা, নিজের পাছায় শাড়ি জোটে না কুত্তা খাওয়ানোর শখ। বুজুক শালি এবার।
— আরে ধুস, খেন্তিকে নয় রে, কুত্তাগুলোকে খাওয়ানোর টাকা তো তুইই চালাস, তাই তোকেই ধরবে রে শালা।
— এই, দ্যাকো দিকি, আমি তো এসব কুত্তাটুত্তার ধারেকাচে থাকিনা গো, কী করি এবেরে?
— জেবে টাকাপয়সা আছে কিছু?
— দশবিশ আচে হয়তো।
— এই নে, দুশো রাখ, দুতিনদিনের জন্য পাড়া থেকে হাওয়া হয়ে যা। কোথায় যাচ্ছিস, আমায় বলে যা, আমি না হয় ক্ষেন্তিকেও সেখানে পাঠিয়ে দিচ্ছি, এদিকটা একটু ঠান্ডা হলে না হয় খবর দেবো।
— মাইরি বলচি দাদা, আর জম্মে তুমি শিওর আমার বাপ ছিলে। তালে বরং একটা কাজ করি, মদ্যমগেরামে আমার মাসি শাশুড়ির বাড়িই যাচ্চি, খেন্তিও খুব ভালো চেনে গো দাদা, তোমার এ উবগার আমি জীবনেও ভুলবো না গো।

চলবে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।