সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ২৮)

সুন্দরী মাকড়সা
— আচ্ছা ঋষি, এবারে তুমি মনে করো তো প্রথম যে কাগজের টুকরোটা তুমি পেয়েছিলে সেটা ঠিক কখন, মানে কোন অবস্থায় সেটা আবিষ্কার করেছিলে তুমি?
— আচ্ছা, সেটা না হয় মনে করছি। কিন্তু তুমি বলো দেখি এসিটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ফের সুইচ অন করলে এসিটা চলতে শুরু করতো কীভাবে?
— কারন তোমার এসির রিমোট নেই। আর ফিউজ বক্স থেকে ফিউজটা একবার খুলে নিলেই যন্ত্রটার সুইচটা অফ হয়ে যেতো, সাথেসাথেই ফের ফিউজটা লাগিয়ে দিলেও ওটা বন্ধই থাকতো, চলতো না। যতক্ষণ পর্যন্ত না ফের সুইচটা কেউ অন করবে। যদিও মডার্ন টেকনোলজি এটাকে সাপোর্ট করে না।
— সেদিন বৃষ্টি হয়েছিলো, অফিস থেকে ফিরে খাওয়াদাওয়ার পর আধশোয়া হয়ে তোমার জন্য কেনা নতুন শারদীয় নবকল্লোল পত্রিকাটা পড়তে গেছিলাম, সেসময়েই সেই নতুন কেনা পত্রিকাটার মধ্যে থেকে প্রথম পাওয়া কাগজের টুকরোটা বুকের ওপর ঝরে পরেছিলো। আমি বাজে কাগজ ভেবে টুকরোটাকে ফেলে দিলেও ফের কুড়িয়ে নিয়েছিলাম।
— কি লেখা ছিলো টুকরোটায় মনে আছে তোমার?
— মনে রাখার কী দরকার? সবকটা টুকরোই তো গুছিয়ে রাখা আছে।
— সেগুলো সম্ভবত আর তোমার গুছিয়ে রাখা জায়গায় নেই।
— মানে?
— না, এটা আমার অনুমান মাত্র। সঠিক নাও হতে পারে। যাকগে আগে মনে করে দেখোতো সে টুকরোটাতে ঠিক কি লেখা ছিলো?
— ধুস, এতোদিন বাদে কি আর সবকিছু ঠিকঠাক মনে থাকে না মনে রাখাটা সম্ভব? তবু যদ্দুর মনে পড়ছে, পাঁচ ছটা শব্দই লেখা ছিলো।
— হ্যাঁ, আমি তো সে শব্দগুলোকেই জানতে চাইছি। জানতে পারলে এসব ঘটনার মোটিভটা বুঝতে পারতাম।
— আবছা মনে পড়ছে, এরকমটা লেখা ছিলো — আমার সংসারকে, দাঁড়াও। মনে পড়েছে, তুমি ভেবো না, আমার সংসারকে , ব্যাস এটুকুই।
— এরপরের টুকরোটার কথা কি তোমার মনে আছে ঋষি? কি লেখা ছিলো সে টুকরোটাতে? আর কবেই বা পেয়েছিলে সেটা?
শেষ রাতের আবছা আলোয় ভরে রয়েছে জানালার বাইরেটা। শেয়ালগুলো শেষ প্রহরের ডাক ডাকছে, সাথে পাড়ার রাস্তায় টহল দেওয়া কুকুরগুলোও সমানে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে যাচ্ছে। ঘরের ভেতর দুটো প্রেমিক হৃদয় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে, কিন্তু সারাটা রাত একটাও ভালোবাসার কথা বলা হয়ে উঠলোনা ওদের।
— একইদিনে, পত্রিকার একটা গল্পকেও শেষ করে উঠতে পারিনি। ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসছিলো। পত্রিকাটাকে টেবিলে রাখতে যেতেই দ্বিতীয় টুকরোটাকে টেবিলের ওপর প্রথম টুকরোটার পাশে পড়ে থাকতে দেখলাম। তবে দ্বিতীয় লেখাটা আর প্রথম লেখাটা একই হাতের লেখা ছিলো না। প্রথমটা একজন মহিলার আর দ্বিতীয়টা একজন পুরুষ মানুষের হাতে লেখা ছিলো। দ্বিতীয় টুকরোটাতে লেখা ছিলো — আমার ভদ্রতাবোধকে তুমি কিন্তু আমার দুর্বলতা ভেবো না… বা এই জাতীয়ই।
— একটা খুন তো অবশ্যই হয়েছে। আর সেটা অতি অবশ্যই…
কথাটা শেষ পর্যন্ত বলা হয়ে উঠলো না স্নেহার। একটা ঢিল এসে জানালা দিয়ে ঘরের মধ্যে পড়লো। জানালা দিয়ে তাকিয়েও কাউকেই দেখতে পেলো না ওরা।
ক্রমশ