শেষ যে ছবিটা ভেসে উঠেছিলো দু’চোখ জোড়া পর্দায়
সেখানে একটা গমরঙা ভোর ছিলো
আর ছিলো এলাচের খোসার মতো আলো,
একটা শালিকপাখি দু’পায়ে হাঁটতে হাঁটতে এসে
ওর নরম মখমলি ডানা দিয়ে আমার দু’চোখ…
আবার যাবো বলে আয়োজনে মেতেছে পৃথিবী।
নয়ানজুলিতে দুলছে কমলকোরক।
শিউলির বনে বসে গেছে প্রজাপতির মেলা।
এবার আর ফিরে আসা নয়।
যাবো — ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য।
ক্রোধ আর প্রেমের সমস্ত আয়ুধে
কে যেন সাজিয়েছে ধূলি!
২|ধুলা মন্দির
অশথের ডালে ডালে, যখন কিচিরমিচির,
ভোরের কুয়াশা সোহাগের ঘরবাড়ি বানায় —
তখন বৃদ্ধ ফাদার দু’হাত বুকের দু’ধারে রেখে
অপলক চেয়ে থাকেন দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখা
ক্রুশবিদ্ধ প্রভূর অপাপবিদ্ধ চোখের দিকে।
ততক্ষণে শিশু সূর্যের বহুরঙা তেরছা আলো
ডালহৌসি স্কোয়ারের সেন্ট জন গির্জার চারধারে
ভীড় করে থাকা বহুতল ইমারত আর গাছপালার
ঘন সবুজের স্তরের সাথে লুকোচুরি খেলে উঁকি দিচ্ছে
পালিশ করা আবলুশ কাঠের ভারী দরজার গায়ে।
ঠিক তখনই পিয়ানোর মূর্ছনায় চার্চঅর্গ্যানের সুরে
কফিনের ভেতর অনন্তশয্যায় শুয়ে থাকা জোব চার্ণক
ঘুম থেকে উঠে আড়মোড়া ভাঙেন।
গীর্জার চূড়ায় এসে পড়া সোনালী আলো
আর প্রভূ যিশুর দৃষ্টির যুগল সম্মিলন
আবলুশ কাঠের ভারী দরজা পার করে
বেরিয়ে পরে পথে। ধুলো ভেঙে এগিয়ে চলে
এক অন্যতর প্রেমের বাহক হয়ে।
বৃদ্ধ ধর্মযাজক কি বুঝতে পারেন
দেওয়াল জুড়ে প্রভূর মূর্তিটাই আছে শুধু!
প্রভূ ঘর ছেড়ে পথে পথে প্রকৃত ঈশ্বরের খোঁজে
হন্যে হয়ে ঘুরে মরছেন।
প্রেম কখনোই চার দেওয়ালে আটকে থাকে না।
পথের ধূলায় মিশে থাকে জীবনের জয়গানে।