সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ৩২)

সুন্দরী মাকড়সা
— দেখেছিস ওরা কিন্তু বসে নেই, ওদের কাজ শুরু করে দিয়েছে, কিন্তু তুই ঘুমোতে চাইছিস।
— শোন, আমি তাহলে এখন আর স্নানটান করবো না। জাস্ট জামাকাপড়টা পালটে নিয়ে, থাক গে চল তাড়াতাড়ি, এ জামাকাপড় পড়েই দিব্যি চলে যাবে। তুই বরং চোখেমুখে একটু জল দিয়ে নে। দেরী করে লাভ নেই।
— কিন্তু আমার তো আরেকটা সন্দেহ হচ্ছে। আমরা দুজনে মিলে বেরিয়ে গেলেই ওরা মুল বডিটাকেও সরিয়ে দেবে।
— সে তো দিয়েইছে ইতিমধ্যে।
— কোথায়?
— ওই যে, গর্তটা?
— ওইটুকু গর্তে পুরো একটা বডিকে কবর দেওয়া যায় আদৌ?
— তাহলে?
— তাহলে তোর মুন্ডু আর আমার মাথা। তোকে বলে কোনো লাভ নেই, তোর গোবরে ভরা মাথায় ঢুকবে না। তুই এক কাজ কর। নীচের ঘরে গিয়ে ওদের কারো কাছে একটা ছুরি হবে কিনা… নাহ্, থাক আমি একটা ভুল পা ফেলতে যাচ্ছিলাম। আচ্ছা তোদের এখানে কোনো ষ্টেশনারী দোকান আছে?
— হু, আছে, তবে একদম আমাদের পাড়ায় না, পাশের পাড়ায়।
— ওই দোকানে যেতে আসতে কতক্ষণ লাগবে?
— আধাঘণ্টা মতো। কেন, কিছু কিনে আনতে হবে?
— হ্যাঁ, একটা ছুড়ি বা ওই জাতীয় কিছু একটা।
— তুই না আমাকে বলিস গোবর মাথা? এখন তো দেখছি আমার থেকে তোর মাথাতেই… ষ্টেশনারী দোকানে যে ছুরি পাওয়া যাবে সেটা দিয়ে খুব বেশী হলে আলুর খোঁসা ছাড়ানো যাবে। ওই চায়ের দোকানের পাশেই একটা কামারশালা আছে। ওর কাছে নানা ধরনের ছুরি কাটারি পাওয়া যায়। যেতে আসতে খুব বেশী হলে দশ মিনিট লাগবে।
— গুড। এখন কি খুলেছে দোকানটা?
— ও খুব ভোরেই খোলে, নইলে দোকানের পেছনেই ওদের ঘর।
— তাহলে তুই না হয় যা, যত শিগগীর পারিস সেলফ ডিফেন্সের জন্য কিছু একটা নিয়ে আয় চট করে। আমি ততক্ষণে না হয় একটু চা বানিয়ে ফেলি।
শ্রেয়ান কোনো প্রশ্ন না করে, পায়ের হাওয়াই চটিটা পালটে একটা চামড়ার জুতো গলিয়ে নিয়েই সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেলো। স্নেহা রান্নাঘরে ঢুকে সবেমাত্র সসপ্যানে জল ঢালতে গেছে, এমন সময় ঘরের ভেতর কিছু একটা পড়ার শব্দ হতেই ঘরে গিয়ে দেখলো, একটা ইটের টুকরোয় একখণ্ড কাগজ মুড়ে কেউ একটা জানালা দিয়ে সেটাকে ঘরের ভেতর ছুঁড়ে মেরেছে। কাগজটায় লাল কালি দিয়ে লেখা রয়েছে — বেশী চালাকি না করে ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরে যাও। নইলে অবধারিত মৃত্যু।
ক্রমশ