গুচ্ছ কাব্যানুশীলনে পল্লব গোস্বামী

১| ডাক

পাড়ার ডোবা ডাক পাঠাচ্ছে, পাশের পুকুরটিকে।
পাশের পুকুরটির আবার পুরাণ বর্ণিত নদীটির প্রতি খুব টান। নদীতে নেমে এসেছেন স্বয়ং নদীয়ার চাঁদ। এসো, আজ আমরা দু’জন ওই চাঁদের পদধুলি মেখে একসাথে চাঁদামাছ গুনি।

গুনতে গুনতে গ্রস্ত গামার গাছটির ছায়ায়
একসাথে গড়ে তুলি
টংঘর

এসো বন্ধু হে এসো,
জন্মান্তরের জীর্ণ জলে
আমাকে তুমি আজ, ঢেউ গোনা শেখাও…

২| চৌঠি

শৈশব থেকে অনন্ত দুধ বিক্রি করে

অনন্তের দুধের ভিতর হাসিখেলা করে
অনন্ত শৈশব

ছোট্ট একটি দস্তার চৌঠিকে ঘিরে
ঘুরতে থাকে
অনন্ত গোয়ালার বেলা

দুধ থেকে ছানা কাটে।
চিনিপাতা দই পাততে পাততে
কেটে যায়,
অনন্তের বাকিটুকু রাত

কোনো কোনো রাতে কাঁচা রক্ত উঁকি মারে,
অনন্তের চৌঠির ভিতর

অনন্ত বয়ে যায়, একলা অনন্তের দিকে…

৩| পুনর্জন্ম

পেটে ক্ষুধা নিয়ে, একদিন ক্ষুধার পৃথিবীতে এসেছিলাম,
পিয়ালপাকা…পটিপটি ঘাস… পারুলবোন

সে সব গত জন্মের কথা,
সে সব জলের অক্ষরে লেখা গান।

জলে জলে ধুয়ে গেছে, পুঁচকে পিড়িং শাকটির খেত।

মনমদিরার নীচে
মৃত মহিষ, মাথা সিতানে জলপাই রঙের স্নান

সমস্ত শিকার পদ্ধতি আজ তুমি তুলে নাও

হে গরাম দেবতা,

গহীন গাড়ল খামারের ভিতর

আজ আমি খুঁজে নিয়েছি,
গ্রামঠাকুরের দান।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।