সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ২৭)

স্ট্যাটাস হইতে সাবধান
কী করে এখন কবি ফুলটুসি তলাপাত্র? এদিকে আজ যাদের অনুষ্ঠানে এখন কবিতাপাঠের জন্য ওকে আহ্বান করা হলো সেটি বর্তমানকালে পশ্চিমবঙ্গের সেরা পত্রিকাগুলোর একটি পত্রিকা — তরুণ তূর্য। আর অন্যদিকে — উফ্, সারাটা শরীর যেন কাসাপেতলের থালাবাটির মতো ঝনঝন করে উঠছে। কতো সাহস ওই হোৎকাটার? ওই তো চেহারা, তায় আবার প্রথমদিন নন্দনে এসেই বগলের তলায় কোত্থেকে একটা সরলরেখাকে নিয়ে সেলফি তুলে বেড়াচ্ছে !
হলের দরজার হাতল থেকে হাতটা সরিয়ে নিলো ফুলটুসি। কবিতা। হ্যাঁ একমাত্র কবিতা দিয়েই এর জবাব দেবে ফুলটুসি। আগামীকালের স্ট্যাটাস জুড়ে ছেপে দেবে আজকের কবিতাপড়ার ছবি। ধীরপায়ে কাঁধের আঁচল ঠিক করতে করতে গেট থেকে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন কবি ফুলটুসি তলাপাত্র।
ছেলেটার কাছে এসে মাথাটা নীচু করে মৃদুস্বরে ছেলেটিকে ওর কবিতাপাঠের একটা ভিডিও ক্তুলে দেওয়ার অনুরোধ করে ছেলেটির হাতে ওর হাত দিয়ে একটু আলতো চাপ দিয়ে মঞ্চকে প্রণাম করে পোডিয়ামে গিয়ে দাঁড়ালো ফুলটুসি। চোখদুটো বন্ধ করে মুহূর্তকাল নিজের বিক্ষিপ্ত মনটাকে বশে নিয়ে এলো ফুলটুসি।
মাউথপিসে আলতো করে মুখ রাখলো ফুলটুসি। কবিতার খাতাটা খুলতে প্রথমেই বেরিয়ে এলো যে পৃষ্ঠাটা সেটাতে জ্বলজ্বল করছেন কবি বিষ্ণু দে। কবিতার শিরোনাম — নাম রেখেছি কোমল গান্ধার। ডাইনে বাঁয়ে এতোটুকু চিন্তা না করে ফুলটুসি, কবির নাম আর কবিতার নাম না বলে গোড়া থেকেই কবিতা পড়া শুরু করে দিলো। সারাটা হল চুপ করে কবিনির কবিতা শুনছে। শেষ হওয়া মাত্রই একটা প্রবল উচ্ছ্বাস এসে ভাসিয়ে নিয়ে গেল ফুলটুসিকে। হাততালির ডানায় ভর করে ও ভেসে চললো দরজার দিকে।
ওদিকে দর্শক আসন থেকে তখনও ভেসে আসছে উচ্ছ্বসিত হাততালির শব্দ। কবি ফুলটুসি তলাপাত্র লিখিত — নাম রেখেছি কোমল গান্ধারের পঞ্চমুখ প্রশংসা সাথে নিয়ে সিট ছেড়ে উঠে এসেছে সেই ছেলেটি, হাতের মোবাইলে ধরে রাখা আছে কবি ফুলটুসির পাঠকরা কবিতার ভিডিও।
ক্রমশ