সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ৭)

সুন্দরী মাকড়সা

পরদিন বেশ বেলায় ঘুম ভাঙলো ঋষির। আগেরদিন রাতে এসি মেসিনটাকে অব্যাহতি দিয়েছিলো বলে ঘরের জানালাগুলো বন্ধ না করেই শুয়ে পড়েছিলো সে। ওর ঘরে শুধুমাত্র উত্তরের দিকে কোনো জানালা নেই। আর তিনদিকের দেওয়ালেই জানালা। উত্তরের দিকে সিঁড়ি ঘরের সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে পশ্চিমে বাঁক নিয়ে ছোট্ট একটু বারান্দার পর ঘরে ঢোকার দরজা, আর সেই দরজা লাগোয়া একটা ছোট্ট দুপাল্লার জানালা। পশ্চিমের দিকে বাকীটা দেওয়াল। দেওয়ালের সাথে সাথে বারান্দাটাও শেষ হয়ে গেছে। দক্ষিনদিকে একটা ডাবল জানালা আর একটা দুপাল্লার। পূব দিকে একটাই মাত্র বড়ো জানালা। ঋষির শোয়ার খাটটা পুব পশ্চিমে লম্বালম্বি করে পাতা, দক্ষিণমুখো জানালা ঘেঁষা খাটের ওপরে জানালার কার্ণিশে এসি মেসিনটা বসানো রয়েছে। এমনিতে ব্যাচেলারদের ঘরের মতোই ওর ঘরেও সেরকম কোনো ফার্নিচার নেই। উত্তরের দেওয়ালে একটা ছোট স্টিলের আয়না বসানো আলমারি আর একটা রেডিমেড আলনা। আর পুবদিকে খাটের পাশে কাঠের একটা নড়বড়ে টেবিল। পশ্চিমে ঘরে ঢোকার দরজার পাশে একটা জনতা স্টোভ, আর সামান্য দুএকটা হাড়িকড়াই। ব্যাস এই হোলো ঋষির ঘরসংসারের ছবি।
এসিটা চালায়নি দেখে জানালাগুলো খোলা। ব্রাশ করে এসে স্টোভে নিজের মতো করে চা বানিয়ে জম্পেস করে টেবিলে চায়ের কাপটা রাখতে গিয়েই গতকালের কাগজের টুকরো দুটোর কথা মনে পড়লো ঋষির। কিন্তু কী আশ্চর্য! টুকরো দুটো টেবিলের ওপর নেই! হয়তো খোলা জানালা দিয়ে আসা হাওয়ায় নীচে পড়ে গিয়ে থাকবে। নীচু হয়ে টেবিলের তলা, খাটের তলা সমেত সমস্ত ঘরটা তন্নতন্ন করে খুঁজলো ঋষি। কিন্তু নাহ্, কোত্থাও কাগজের টুকরো দুটোর চিহ্নমাত্র নেই। ঠান্ডা চাটাকেই ঢকঢক করে গিলে নিয়ে স্টোভে ভাতের ভেতর আলু আর ডিম সেদ্ধ বসিয়ে গামছা কাঁধে নিয়ে নীচের বাথরুমে চললো ঋষি। কাগজের টুকরো দুটো যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সেটা নয় ঠিকই কিন্তু ও দুটো এলোই বা কোত্থেকে আর গেলোই বা কোথায়!
— চুলোয় গেছে।
বেশ জোরেই ওর গলা থেকে শব্দটা বেরিয়ে এলো। হো হো করে নিজের থেকেই হেসে উঠলো ঋষি।

ক্রমশ

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।