পাক্ষিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ১৪
বিষয় – আধুনিক সমাজ
তারিখ: ০২/১০/২০২০
এক ছটা রোদ্দুর
সুমিতা যখন ডাকতে আসে তখন সদ্য পুজোতে বসেছেন অনিমাদেবী।সুমিতার এত জোরে জোরে হাকডাকে তিনি পুজো ছেড়ে সাতসকালে উঠে এসে বলেন–এই ষাঁড়ের মতো চেচাচ্ছিস কেন?কী হয়েছে?বাড়িতে কী ডাকাত পড়েছে?
সুমিতা বলে-তার থেকে ও বড়,বাবু তো চমকে গিয়ে তোমাকে ডাকতে বললো।
–মানে?কী হয়েছে কী?
–কুশল দাদাবাবু বিয়ে করে এনেছে।
–অ্যাঁ…!চল তো দেখি..?
এসে দেখেন দরজায় কুশল তার বউকে নিয়ে দাঁড়িয়ে।তমালবাব রাগে গিরগির করছেন।অনিমাদেবী কিছু বলতে গিয়ে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে করুণ মুখ দেখে চুপ করে যায়।কী মিষ্টি মায়াভরা মুখ-যেন একটু মরুভূমির বুকে বৃষ্টি চাওয়ার মতো ভালোবাসা পাওয়ার তৃষ্ণায় ব্যাকুল !
কাছে গিয়ে -নাম কী তোমার ?বলে মুখটাই ঠোঁটে হাত বুলিয়ে নিজের মুখে হাতটা নিয়ে চুমু খান।
–শর্বাণী রায়। !ভয়ে আমতা আমতা করে বলে।
তমালবাবু রাগে ক্ষোভে, দুঃখে বলে–এবার তাহলে মায়া করে ঘরে তোলো !যা পারো করো,আমি এসবে নেই বলে উনি গটগট করে চলে গেলেন।
অনিমাদেবী স্বাভাবিক করতে বলেন–দেখ মা তুমি কিছু মনে করোনা, উনি ওপরে এমন, কিন্তু ভেতরে খুব নরম।আসলে একমাত্র ছেলের বিয়ে নিয়ে সবারই তো স্বপ্ন থাকে!সে স্বপ্ন একলহমায় চুরমার হলে একটু রাগ হয় বৈ কী?
এবার কুশল বলে–কিন্তু তাই বলে বাবা ..?
–চুপ কর!তুই ও এমন কিছু মহান কাজ করে আসিসনি যে,বাবার ভুল ধরবি।থাক এসব।একটু দাঁড়াও মা ,অ্যাই সুমিতা ঠাকুরঘর থেকে একটু বরণডালা সাজিয়ে আন তো ঘরে তুলি !
এইভাবে নিঃশব্দে একমাত্র ছেলের বউ বরণ করতে কষ্ট হলেও মেনে নিলেন।তারপর ধিরে ধিরে জানলেন মেয়েটি কুশলের অফিসেই কাজ করে,মা নেই-বাবা দাদা, বৌদি আছেন।গতকাল বিয়েতে পণ নিয়ে ঝামেলা হওয়ায় মেয়েটি আর ওই ছেলেটিকে বিয়ে করেনি।এমতাবস্থায় লগ্নভ্রষ্টা হবে দেখে শর্বাণীর বাবা কাঁদতে কাঁদতে কুশলকে অনুরোধ করে–বাবা তুমি তো শর্বাণীর বন্ধু, ওকে ভালো করে চেন !আজ এক পিতৃদ্বায়গ্রস্ত পিতাকে উদ্ধার করে দাও বাবা !
–এ কী বলছেন ?হঠাৎ করে এভাবে বিয়ে হয় না কি?তাছাড়া বাড়িতে মা-বাবা…
–জানি বাবা তোমার পরিবার রাগান্বিত হবে-কিন্তু আমি যতদূর আমার মেয়েকে জানি এ অপমানে ও ওই ছেলেকে বিয়ে করলো না ঠিকই, কিন্তু তারপর যদি কোনো অঘটন ঘটিয়ে দেয়-তখন আমি বা তুমি কেউ কাউকে ক্ষমা করতে পারব না বাবা !মেয়ে খুব ভালো, কিন্তু ও যে খুব অভিমানী, জেদী। !
—সবই বুঝছি মেসোমশাই, কিন্তু বাড়িতে ..?
–তোমার পরিবার শিক্ষিত, ওরা ঠিক বুঝবেন।তাছাড়া শর্বাণী মেয়ে হিসেবে তো খারাপ নয়?দেখ ও ঠিক মন জয় করে নেবে ।
–সে তো জানি !কিন্তু..
–এ সমাজ বড় বিচিত্র বাবা !পণ নিয়ে শর্বাণীর প্রতিবাদে এই বিয়ে বাড়িতেই যারা হাততালি দিলো-দুদিন পর ওরাই আবার লগ্নভ্রষ্টা মেয়েকে কত কটু কথা শোনাবে।আমার এই একটিই মা মরা মেয়ে বাবা !আমি তোমার কাছে জোড়হাত করছি তুমি আমাদের উদ্ধার করো !
–না, না, এভাবে বলবেন না।আমি রাজী!
হঠাৎ শর্বাণী এসে বলে –এ কী করছ বাবা?আমি তোমার কাছে এতই বোঝা হয়ে গেছি যে,তুমি আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে এভাবে…!তাছাড়া ও কুশলের কাছে প্রশ্ন আছে–তুমি কি আমাকে বাবার কথা শুনে করুণা করতে চাইছ?
–না, করুণা নয়।হঠাৎ বলেই এত কথা উনাকে আজ বলতে হলো! এই সিচুয়েশন না হলে আমি এককথায় রাজী হতাম।আসলে বাড়িতে বাবা একটু কড়া তো-তাই একটু রেগে যাবেন, পরে মেনে ও নেবেন।এই কথা ভেবে…
–কে রাজী হতে বলেছে তোমাকে?আমি তো একবার ও সাধিনি ?
–শর্বাণী জানি তোমার রাগ হচ্ছে শুনে-যাক চলো এ বিয়েতেআমি রাজী।
–আমি রাজী না।
—কেন ?
এমন সময় শর্বাণীর বাবা মেয়েকে হাতজোড় করায় শর্বাণী চুপ হয়ে কুশলের দিকে তাকায়।
কুশল ঈশারায় -‘হ্যাঁ’ বলতে বললে,শর্বাণী মাথা নিচু করে বাবার হাত ধরে কে়ঁদে ফেলে।এরপর বিয়েটা সুষ্ঠু ভাবেই সম্পন্ন হয়ে গেল।
এরপর কোনো শুভ অনুষ্ঠান এবাড়িতে হলোনা দেখে অনিমাদেবী ও তমালবাবু কুশলকে ডেকে পরদিন বৌভাতের অনুষ্ঠানের কথা বললে;
কুশল বলে–আগামী পরশু একটা পার্টি দিয়ে দেব অফিসের সব বলবো,তোমরা কাদের বলবে ঠিক করে নাও।
অনিমাদেবী বলেন–সে কীরে!বৌভাত হবেনা?ভাত কাপড়ের অনুষ্ঠান?
–না, মা।একটু আধুনিক হও।এসব এখনকার দিনে চলে না।কে কার ভাতকাপড়ের দায়িত্ব নেয়।এখন সবাই স্বাবলম্বী !তাছাড়া সম্পর্ক ও চিরস্থায়ী বলে কিছু হয় না!চির ধরতেই পারে !তাই এসব..
–কী বলছিস তুই !এখানে আধুনিক প্রসঙ্গ এলো কেন?এই বৌভাত, ভাতকাপড়ের অনুষ্ঠান এ আমাদের ঐতিহ্য, সামাজিক সুষ্ঠ,সুন্দর রীতিনীতি !এগুলো মানলে বুঝি আধুনিক হওয়া যায় না?
এমন সময় শর্বাণী এসে বলে–বলুন কী করতে হবে মা ?আমি মানব।
কুশল ঝাঁঝিয়ে উঠে বলে –থাক এসব শর্বাণী !তুমি ভালো করেই জান আজ আমাকে সরকারের নানা প্রজেক্টের নিয়ে মিটিং এ থাকতে হবে!আমি আজ উপস্থিত থাকতে পারব না।যা ভালো বোঝ করো।ডিসগাষ্টিং সব বলে রাগে গজগজ করতে করতে বেরিয়ে গেল।
শর্বাণী তো এমনিতেই ‘উড়ে এসে জুড়ে বসেছি’ ভেবে অপরাধ বোধে মরছে,তারপর আর কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ চোখ ছলছল করে চলে যেতেই, অনিমাদেবী কাঁধে হাত রেখে বলেন–সব ঠিক হয়ে যাবে।একটু সময় দে.!
–আমি ওর জন্য ভাবছি না মা,আমি ভাবছি আপনার -বাবার কথা।আপনাদের সাধ অপূর্ণ থেকেই গেল।কথাটা বলতে বলতে ছুটে চলে গেল।অনিমাদেবী দুফোঁটা চোখের জল ফেলে মানিয়ে নেওয়ার মন্ত্রে দীক্ষিত হলেন।
দুদিন পর পার্টিতে শর্বাণীর লেহেঙ্গা পরা নিয়ে তমালবাবু অনিমাদেবীকে জোরে জোরে বললেন–কি গো! তুমি কি আজকাল সবকিছু থেকে অবসর নিয়ে নিয়েছ?
–মানে? কী বলতে চাইছ তুমি?আমি আবার কী করলাম?
–কেন তোমার চোখ নেই?দেখতে পাওনি বৌমা শাড়ি না পরে কী পরেছে ওটা? আজ অন্তত শাড়ি পরলে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেত?
–আমি ও কী করে জানবো বলো?
তমালবাবু চুপচাপ দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বলেন–একটা সময় ছিল এই চ্যাটার্জি বাড়ির রীতিনীতি, আভিজাত্য, ঐতিহ্য -বাড়ির বউ,মেয়েদের পোশাক আশাক দশটা গ্রামে দেখার মতো ছিল !আর এখন বাড়ির বৌমার বিয়ের অনুষ্ঠানে ও শাড়ি নেই গায়ে–ভাবতেই আমার নিজেকেই অপরাধী লাগছে।আমার আত্মীয় সজ্জন সবাই দেখছে আর আমার অক্ষমতাকে বিদ্রুপ করছে..!
কুশল যেতে যেতে কথাটা শুনে বলে –একটা শাড়ি পরা নিয়ে আবার?তোমরা কী চাও বলোতো?কোনো একটা কিছু নিয়ে অশান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি করতে?
অনিমাদেবী চিৎকার করে ওঠেন-কুশল কী বলছিস তুই ?তোর বাবা ওইভাবে বলেছে?তুই উল্টো মানে করছিস!তোর বাবা বলতে চেয়েছে…
–থাক মা,আমি বুঝে গেছি।তোমরা সেই পুরোনো
সেন্টিমেন্টাল নিয়ে এখন ও বসে আছ !আরে পোশাকে কী আসে যায়?
অনিমাদেবী বলেন–ও পোশাকে কিছু এসে যায়না বুঝি?দেখ অন্য সময় হলে কিছু বলতাম না, কিন্তু এই চ্যাটার্জি বাড়ির বউ বিয়ের প্রথম অনুষ্ঠানে শাড়ি পরবে -এটাই স্বাভাবিক।আমাদের একটা সমাজ আছে,মান সম্মান আছে,ঐতিহ্য আছে।আর তোরা সেইসব ভেঙে…?
–কেন লেহেঙ্গা কোথায় অশোভনীয় বলো তুমি?
–অশোভনীয় কেউ বলছে না, আমরা বলতে চাইলাম আজকের দিনে বেনারসি বা ভালো কোনো শাড়ি পরা এবাড়ির ঐতিহ্য !যতই আধুনিক হও না কেন-আমরা একটা সমাজে বাস করি। ..!
–রাখ তোমার সমাজ,তোমার ঐতিহ্য !একটু আধুনিক মনস্ক হও মা !এখনকার আধুনিক সমাজে এটাই ফ্যাশন !মেয়েরা টপ জিন্স পরছে,মেয়েরা…
–থাক কুশল !আর বোঝানোর প্রয়োজন নেই।তবে বউকে সেভাবে সাজাতে চায়লে অন্যত্র নিয়ে যাস।
–মা ….?
সেইদিনের পর থেকে তমালবাবু, অনিমাদেবী আর কোনো ব্যাপারে ই থাকেন না।তবে শর্বাণী মেয়েটি খুব ভালো, করিতকর্মায়,ব্যবহারে শ্বশুর-শাশুড়ির মন জয় করে নিয়েছে।এইভাবেই বেশ চলছিল।অনিমাদেবী ও মেয়ের মতো ভালোবাসতে লাগলেন।সংসারে বেশ একটা শ্রী ফিরেছিল ।শর্বাণী সন্ধ্যায় ফিরে রাতের রান্না করতে চাইলে অনিমাদেবী মাঝেমধ্যেই করতে দেন ভালো-মন্দ রকমারি পদ।সবাই প্রশংসা ও করে।এইভাবেই চলে যাচ্ছিল বেশ।কিন্তু সমস্যা হলো সেদিন কুশলের অফিসে যাওয়ার তাড়াতাড়ির চোটে শর্বাণী ছুটতে গিয়ে মেঝেতে স্লিপ কেটে পড়ে গেলে-শুরু হয় বিল্ডিং ।
নার্সিংহোমে জানায়-মিসক্যারেজ।ব্যস কান্নায় ভেঙে পড়ে শর্বাণী-প্রথম সন্তান থেকে সে বঞ্চিত হলো?
অনিমাদেবী অনেক বোঝালেন–গাছ থাকলেই শাখাপ্রশাখা আবার হবে।এত ভেঙে পড়িস না মা!
কিন্তু ভগবান বোধহয় অলক্ষ্যে হাসছিলেন! ডাক্তার জানালেন -ও কোনোদিন ও আর মা হতে পারবে না।কথাটা শোনার পর থেকেই শর্বাণী যেন শয্যা নিল।ছোট থেকেই মা হারা মেয়ে জীবনে সুখ পেল না!কুশল প্রথম প্রথম অনেক বুঝিয়েছে,কিন্তু কোনো কাজ হয়নি দেখে সেও একটা সময় নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত হয়ে গেছে।এদিকে শর্বাণীর অফিস বন্ধ, খাওয়া, ঘুম সব বন্ধ !শেষে একটা ঘরে নিজেকে বন্দি করে শুধু পাগলের মতো কাঁদতে থাকে।
অনিমাদেবী ও তমালবাবু অনেক চেষ্টা করেও খাওয়াতে, বোঝাতে ব্যর্থ।
সেদিন কাজের মেয়ে সুমিতাকে শর্বাণীর কাছে রেখে তমালবাবু ও অনিমাদেবী একটু কাজে বের হয়েছে।সবিতা রান্নায় ব্যস্ত ।এমন সময় শর্বাণী একা যত আজেবাজে ভেবে- নিজের ভবিষ্যৎ অন্ধকার জীবনের আগাম পরিণতি ভেবে শিহরিত হয় !মনে মনে আরো খারাপ ভেবে নিজেকে শেষ করে দিতে উদ্যাগী হলে সবিতা চলে আসে।সঙ্গে সঙ্গে কুশলকে ফোন করলে-কুশল ছুটে আসে বাড়ি।অনেক বোঝানোর পর শর্বাণী কুশলের কাঁধে মাথা দিয়ে একটু ঘুমানোর চেষ্টা করতেই দরজার কলিং বেলটা বেজে ওঠে।সবিতা খুলে সব বলে অনিমাদেবীকে।ওরা এসে দেখেন কুশলের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমোচ্ছে শর্বাণী!কত ক্লান্ত,বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে ওকে …!
—শর্বাণী?
–কে মা?চমকে ওঠে শর্বাণী …!
–হ্যাঁ ,আমরা।দেখ তো মা তোর জন্য কাকে এনেছি?
–কাকে মা?
—তোর জন্য একটা ফুটফুটে দুগ্গা এনেছি,আজ থেকে এই তোর মেয়ে..
শর্বাণী চেয়ে দেখে খুব মিষ্টি একটা ছোট্ট মেয়ে শর্বাণীর দিকে করুণভাবে চেয়ে আছে ।শর্বাণী আনন্দে দুহাত বাড়ালে….
অনিমাদেবী বলেন বাচ্চাটাকে-যাও সোনা ওই তো তোমার মা!
বাচ্চাটা ছুটে গেলে শর্বাণী জড়িয়ে ধরে আদরে আদরে ভরিয়ে দেয়-যেন তার হারানো সম্পদ খুঁজে পেল আজ !
কুশল কিছু জিজ্ঞেস করতেই তমালবাবু বলে ওঠেন–আধুনিক শুধু পোশাক ,রুচিতে হয়না,আধুনিক হতে গেলে উদার বড়,প্রসন্ন মন হতে হয়।তোমরা শুধু আভিজাত্য, ঐতিহ্য টাকে ব্যাকডেটেড করে শালিনতা ছাড়িয়েছ,কিন্তু মনটাকে উদার করে নিতে পার নি?এই তো তোমাদের আধুনিক সমাজ শুধু পোশাকে,বিলাসিতায়,নগ্নরুচিতে,বিচ্ছেদে…
–মানে?
–মানেটা শুধু তোকেই বলছি না ।সমগ্র আধুনিক সমাজকেই বলছি।আজ তোর জায়গায় বা তুই কত সহজেই একটা সন্তানহীনতার অজুহাত দেখিয়ে বিচ্ছেদ চায়তেই পারিস,যেটা সমাজে অহরহ ঘটছে।কিন্তু কজন পারে মনটাকে আধুনিক করে এই সমাজে বড় ভালো কিছু করে দেখাতে ?তারা পারে না অনাথ শিশুদের দত্তক নিয়ে তাদেরকে যেমন সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে বাঁচতে সাহায্য করবে,তেমনি নিজেরাও বাঁচতে ..!
-সত্যিই বাবা !
–থাক,বাবা তোরা সুখী হলেই আমরা সুখী !
-আমি যা ভাবতে পারিনি, তুমি কত সহজেই সমাধান করে দিলে !আমি আধুনিক হয়ে ওএত বড় মনের অধিকারী হতে পারিনি !অথচ তোমরা কত সহজে অনাথ শিশুকে আপন করে নিয়ে এলে ?––
–একেই তো আধুনিক বলে বাবা!মনটাকে বড় করে মানিয়ে নেওয়াই তো আধুনিকতা!কুরুচিপূর্ণ
অপসংস্কৃতি আধুনিকতা নয়।এ সমাজ আধুনিকতার বড়াই করে অপসংস্কৃতির পথে যেভাবে যাচ্ছে, তাতে….
–বুঝেছি বাবা!আমায় ক্ষমা করো,এ ভাবনা আমার আসেনি।দেখ কী ফিরিয়ে দিলে তোমরা …
ওরা দেখে শর্বাণী আনন্দে ভালোবাসায়,সোহাগে মেয়েটাকে নিয়ে সেই আগের মতো উচ্ছ্বল হাসিতে ফেটে পড়ছে।ওর একরাশ হাসিতে যেন সারা পরিবার ও আবার স্বমহিমায় ফিরে এলো।