সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ১৫)

সুন্দরী মাকড়সা
অফিস পৌঁছিতে, আজ বেশ দেরী হয়ে গেছে। ওর টি এল কে ম্যানেজ করে নিতে পারলেও স্নেহাকে করতে পারলো না। চেয়ারে বসে সবেমাত্র ডেস্কটপটাকে অন করতেই গম্ভীরমুখে টেবিলের সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়লো স্নেহা।
— কী ব্যাপার! এতোটা দেরী হলো কেন ? রাতে ঘুমোও নি? চেহারাটার দিকে তাকিয়েছো?
যাও, একটু ফ্রেস হয়ে নাও আগে, তারপর এসে ডেক্সে বসো।
স্নেহা যেন দিনেদিনে ঋষির গার্জিয়ান হয়ে উঠছে। এতক্ষণ ধরে ঋষি গতকালের ঘটনাগুলো বেমালুম ভুলে ছিলো। স্নেহার কথায় গতকালের রাতটা যেন ঝাঁপিয়ে পড়লো ওর ওপর। ঋষি এক মূহুর্ত চিন্তা করে নিলো ও কি করবে। গতকাল রাতের ঘটনাটা বলবে স্নেহাকে নাকি চেপে যাবে। ও ঠিক করে নিলো, চেপে যাবে। এসব শুনলে স্নেহা উলটে এমনভাবে ঘাবড়ে যাবে যে, তখন ওকে নিয়েই ঋষিকে ব্যস্ত হয়ে পড়তে হবে।
— আসলে গত দুদিন ধরে দাড়ি সেভ করা হয়নি তো তাই হয়তো এরকম দেখাচ্ছে। কাল রাতে বিন্দাস ঘুমিয়েছি। বরং অন্যান্য দিনের থেকে বেশীই ঘুমিয়েছি। অনেক বেলায় ঘুম ভেঙেছে বলেই তো অফিসে লেট খেলাম আজ।
ঋষি বুঝলো স্নেহা কনভিনস হয়েছে। দিনদিন স্নেহা যেরকমভাবে ওর ভালোমন্দের ব্যাপারে সচেতন হয়ে উঠছে, তাতে করে বিষয়টা ফাইনালি হয়তো ওকে চেপে রাখা যাবেনা। বলতে হবেই, কিন্তু এখন হয়তো একটু বেশী আগেভাগেই হয়ে যাবে।
হুম, হতেও পারে। স্নান করেছো তো আজ? তবুও যাও, হাতেমুখে একটু জল দিয়ে এসো, দেখবে রিলাক্সড লাগবে।
স্নেহা চলে গেলো, কিন্তু যাওয়ার আগে ঋষিকে ফের গতকালের রাতটা ফিরিয়ে দিয়ে গেলো। গতরাতের ঘটনাগুলোকে এক – দুই করে বিশ্লেষণ করতে গিয়েই মনে হলো যে আজ অফিসে এমনিতেই লেট তারওপর এখনও যদি ল্যাপটপ না খুলে বসে তাহলে আর দেখতে হবেনা। চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো ঋষি। স্নেহার কথামতো একটু মুখে ঘাড়ে জল দিতে পা বাড়ালো ফ্রেসরুমের দিকে।