সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ২৭)

সুন্দরী মাকড়সা
— আচ্ছা, তুমি কি এর আগে কোনোদিনও ছাদে গেছিলে?
— না তো, কেন হঠাৎ?
— না, তোমার এসিটা মাঝরাতে বন্ধ হওয়ার কারণটা পরিষ্কার হলো।
— কী কারণ? ছাদে যাওয়া না যাওয়ার সাথে এসি বন্ধ হবার সম্পর্কটা কোথায়?
— এর আগে এতোদিন ধরে ওই সিঁড়িঘরের দরজাটা তো নিশ্চয়ই খোলাই ছিলো তাই না?
— হয়তোবা খোলাই ছিলো, আমি এটা ঠিক লক্ষ্য করিনি, মানে খেয়াল করে দেখিনি।
— নীচে ক ঘর ভাড়াটে আছে?
— দুঘর
— মোট কজন থাকে নীচে?
— দুটো ঘর মিলিয়ে মোট তিনজন হবে হয়তো।
— হয়তো কেন? একই বাড়িতে থাকো, কোথায় কজন থাকো জানোনা?
— দেখো স্নেহা, অফিস থেকে বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে যায়। তারপর ভাত আর মুখে দেওয়ার মতো কিছু একটা রান্না করে, খেয়ে শুতে শুতে প্রতিদিনই রাত হয়ে যায়। তাই সকালে উঠতেও দেরী হয়ে যায়। কোনোরকমে স্নান করে নাকেমুখে গুঁজে দৌড় লাগাই। ব্যাস, এ বাড়ির সাথে আমার সম্পর্কটা ঠিক এটুকুই ব্যাস।
— তাই বলে তুমি যে বাড়িতে থাকবে, সে বাড়িতে তোমার প্রতিবেশী কারা, সেটা না জানাটা কোনো কাজের কথা না ঋষি, অন্ততপক্ষে তুমি যখন বাড়িটাকে দেখতে এসেছিলে তখন তো তোমার এ সমস্ত কিছু খোঁজ নিয়েই আসা উচিত ছিলো। দোতলায় থেকেও, মাথার ওপর ছাদ, সেই ছাদেই একদিনের জন্যেও পায়চারি না করাটাও কোনো কাজের কথা না।
— উফফ্, তোমাকে আমি কীভাবে বোঝাবো যে, আমি বাড়িটা ভাড়া নিয়েছিলাম একমাত্র এই কারণে যে এই অচেনা অজানা কলকাতায় আমার মাথা গোঁজার মতো একটা ঠাঁইয়ের খুবই প্রয়োজন ছিলো। আর তাছাড়া কোনো এডভান্স ছাড়া এই মাগগি গন্ডার দিনে কে আমাকে মাত্র একশো দশ টাকায় একটা ভদ্রস্ত মাথা গোঁজার ঠাঁই দিতো বলো দেখি!
— তোমার এসি বন্ধ হওয়ার সময় কি ঘরের অন্যান্য কোনো পয়েন্টও নিভে যেতো?
— সম্ভবত না। কারণ ওই সময়েই তো আমি ঘরের লাইটের সুইচ অন করে, লাইট জ্বেলেছি।
— তাহলে ছাদের ওই কিটকাটের বক্সের ভেতরকার একটা ফিউজের সাথেই এসির লাইনটা জয়েন্ট করা ছিলো।
ক্রমশ…