সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ৩১)

সুন্দরী মাকড়সা
— আজ মনে হচ্ছে অফিস করা যাবেনা।
— কে অফিস যাবে আজ? কাল সারারাত যা ধকল গেছে, আর যা টেনশনে কেটেছে রাতটা, আমি অন্তত পারবো না অফিস যেতে। এখন অনেকক্ষণ ধরে স্নান করে ভাতে সিদ্ধ ভাত খেয়ে সটান ঘুম দেবো আমি।
— হুঁম। স্নানটা করতে হবে ঠিকই, আর সেটা এখুনি। তারপর…
— ওহ্, স্যরি রে। আমি খুব সেলফিসের মতো আমার কথা ভাবলাম। কিন্তু তুই? তুই কি করবি স্নেহা? তুই না হয় বিছানাটায় শুবি আর আমি মেঝেতে…
— আমারও বিছানায় শোয়া হবেনা, আর তোরও মেঝেতে শুতে হবে না। এখুনি স্নান করতে যা, কুইক। তোর হয়ে গেলেই আমাকে ঢুকতে হবে। স্নান করেই বেরোতে হবে। পাড়ার ওই চায়ের দোকানে ডিম পাউরুটি টোষ্ট পাওয়া যায়?
— মানে? আমি এখন কোথাও বেরোতে পারবো না। আমি স্নানে ঢুকছি, তুই বরং হাঁড়িতে ভাত চাপিয়ে দে, আমি এসে নামিয়ে নেবো। ততক্ষণে তুই স্নানটা সেরে নিস।
স্নেহা গম্ভীর হয়ে আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়ে নিয়ে, জামাকাপড় ঠিকঠাক করে নিতে নিতে বলে উঠলো —
— আমি যাচ্ছি বুঝলি, তুই নাহয় স্নানটান সেরে খেয়েদেয়ে ঘুমিয়েটুমিয়ে নে, আমি একাই না হয় একটু লোকাল থানার থেকে ঘুরে আসি।
— লোকাল থানা?
ঋষি চমকে উঠলো।
— কেন? হঠাৎ থানাপুলিশ কেন? কি হয়েছে? আমি কি কোনো… আমার এগেইনস্টে তোর কোনো এলিগেশন আছে?
— হ্যাঁ, আছে।
— কী করেছি আমি?
— তুই একটা হাঁদারাম। এতোটুকুও ঘিলু নেই তোর মগজে। মিনিমাম একটা সিচুয়েশনকেও বুঝে উঠতে পারিস না।
— দ্যাখো স্নেহা, It maybe that I am a fool one, really a গবেট কিন্তু আমি তো তোমাকে কখনোই…
— কী মুশকিল! আবার তুমি কেন? এই তো বেশ তুইতেই ছিলাম আমরা। আরে বাবা পুলিশ না এলে যে ডেডবডিটাকে দীর্ঘদিন ধরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে সেটা কার কাছে হ্যান্ডওভার করবো?
— ডেডবডিটাকে! কার ডেডবডি? কোথায় লুকিয়ে রাখা আছে? কে খুঁজে পেলো সেটা? তুমি? আশ্চর্য, তুমি তো সারাক্ষণ আমার সাথেই ছিলে, তাহলে সেসব আবার খুঁজলেই বা কখন আর খুঁজে পেলেই বা কখন?
— বেড়ালটা যেখানে মারা গেছিলো, সেখানে একটা কংকালের হাত মাটি থেকে উঠে আছে সেটা দেখেছো নিশ্চয়ই?
স্নেহার কথা শেষ হওয়া মাত্রই ঋষি তাড়াতাড়ি জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। সেখানে এখন আর সেই হাতটা দেখা যাচ্ছে না। কে যেন একটা অগভীর গর্ত খুঁড়ে রেখেছে।
ক্রমশ