মার্গে অনন্য সম্মান পৃথা গাঙ্গুলী (অ্যাডমিন পোস্ট)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ৬৯
বিষয় – বিজ্ঞান বনাম কুসংস্কার
সকাল থেকেই বোস বাড়িতে আজ গম্ভীর পরিবেশ। একমাত্র বাড়ির বউকে আজ বিদায় জানানো হচ্ছে অপয়া তকমা দিয়ে। বিয়ের তিনমাসের মাথায় স্বামী হারানোর অপরাধে। ড্রিঙ্ক অ্যান্ড ড্রাইভ এর কারণকে পিছনে ফেলে সদ্য বিবাহিত বউ-কে দায়ী করে সবাই যখন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছেন তখন গাড়ীর সীটে একমনে চুপ করে বসে আছেন সদ্য বিতাড়িত মানুষটি। হাতে মুঠো করে রাখা পুরনো একতাড়া কাগজ। তিনবছরের পুরনো এক রবিবাসরীয়। যেটি সেই প্রথম দিন থেকেই সযত্নে রেখে দিয়েছিলেন তিলোত্তমা সেন ওরফে বোস বাড়ির অপয়া বউটি। আজ আরো একবার চোখ চলে গেলো কাগজটির বিজ্ঞাপনের পাতাটিতে। জ্বল জ্বল করছে কতগুলো লাইন। “
“সুর্দশন স্মার্ট আধুনিক ও সংস্কারমুক্ত পাত্রের জন্য উপযুক্ত পাত্রী চাই”।
উপরের ঘটনাটি কাল্পনিক কিন্তু বাস্তব। এরকমটা আমরা দেখেই থাকি। পোশাক-পরিচ্ছদ, কথাবার্তা চালচলন ও আদপ-কায়দায় আমরা আধুনিক হচ্ছি। আধুনিকতার দৌড়ে সবাই আমরা লাল দাগ পেরোতে চাই। কিন্তু নিজেদের মানুষিকতা কিংবা মননকে কি আমরা আধুনিক স্তরে নিয়ে যেতে পেরেছি?
বাহ্যিক আধুনিকতায় মোড়া কাঁচের পাল্লা দেখে যেমন বোঝা যায় না ঘরের দেওয়াল ফাঁক তেমনিই সো-কল্ড সোফিসটিকেশেন এর পরিবেশ থেকেও জানা যায় না ভিতরের কালিমার ছাপ।।
আধুনিকতা মানেই কি শুধু গ্রুমিং হওয়া নাকি নিজের বোধের বিকাশকে প্রসারিত করা কিংবা মনের জানলাটাকে এতোটাই বড় করে রাখা যেখানে শুধুই সকালের মিঠে রোদ কিংবা রাতের জ্যোৎস্নার আলোই ছড়াতে পারে।
“বিজ্ঞান আমার মনে থাকুক, থাকুক কলমে,
সরব হবো সদাই মোরা কুসংস্কার দমনে”