T3 || সৌরভ সন্ধ্যায় || লিখেছেন প্রদীপ গুপ্ত

সৌরভ কে

কেমোফ্লেজহীন এক পরিষ্কার মুখ ছিলো ওর। কোনো কিছু বললে — ” না প্রদীপদা হবে না।” একথাটা কোনোদিনও ওর মুখে শুনিনি। বরং আন্তরিকভাবে বলেছে, — ” আপনি যখন বলছেন খুব চেষ্টা করবো। ” ও যে সত্যিই চেষ্টা করতো সেটা বোঝা যেতো। হয় দুদিন বাদে ফোন আসতো — হ্যাঁ দাদা হয়ে গেছে। আপনি অমুকদিন…” নইলে মুখটা কাচুমাচু করে বলতো –” স্যরি প্রদীপদা, আপনাকে বলেছিলাম না.. “
সহজ সরল ভাবে সত্য কথা বলতে এরকম কারোকে খুব একটা দেখা যায় না আজকাল। তবে ও যদি তোকে ভালোবেসে তোর জন্য কিছু করতো, সেটা করার জন্য কিছুতেই কোনওরকমভাবে তার কৃতিত্ব দাবী করতে দেখি নি ওকে। আমি সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করি যে ক’বছর আমি সরকারি কবিতা উৎসবে ডাক পেয়েছি, সেটা সম্পূর্ণভাবে ওরই প্রচেষ্টায়, অথচ সে কথা ওকে বললেই ও নির্লিপ্ত মুখে আকাশের দিকে তাকিয়ে একটু দুষ্টুমির হাসি হেসে বলতো — ” মাকালির দিব্যি প্রদীপদা, অমুকদা আপনার নাম প্রস্তাব করেছিলেন।” অথচ বিশ্বাস কর আমি কোনোদিনই ওকে একবারের জন্যও নিজের নাম সুপারিশ করি নি। আমার মতো এরকম একটা নিরেট অকবির জন্যও ও চিন্তা করতো, এটাই ছিলো সৌরভ।
কিচ্ছু ভালো লাগছে না রে। চারিদিকে কতো মুখ ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু ওর মতো সাহসী, সহজ সরল আর অকপট মুখ একটাও নজরে আসে না।

১|

যাদের যাদের দুদিকে মুখ
তাদের হোক সুখ,হোক সুখ
যাদের চারদিকে চার চোখ
তাদের সুখ হোক,সুখ হোক
যাদের দশদিকে দশ মন
আদের সুখ হোক সারাক্ষণ।
যাদের ষোল হাতে ধরা ফুল
তাদের না যেন ভাঙে ভুল।
যতো চেয়ার মোছা লোক
তারা দূর হোক, দূর হোক।

২|

একটা শক্তিশালী ঘাড়
একটা নির্মেদ কাঁধ
আর একটা শক্ত শিরদাঁড়া
খুব ভালো সিঁড়ি হওয়ার শর্তাবলী হতে পারে।
নিজে কোনোদিনই সিঁড়ি বাইতে পারে না।

৩|

ফুলে ভরা সাজি
পুরোহিতের পছন্দ
দেবতার কোনো কাজে আসে না।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।