সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ৩০)

সুন্দরী মাকড়সা
— আমার একটা স্কেল চাই।
— স্কেল কোথায় পাবো? আমি কি এখনও জ্যামিতি বক্স নিয়ে স্কুলে যাই নাকি?
— হুম, তাহলে — এক মিনিট। তোমার কাছে কোনো সুতলি বা দড়ি জাতীয় কিছু আছে?
— যা ব্বাবা, দড়ি দিয়ে আমি কী করবো! কারো হাতপা বাঁধবে নাকি তুমি? দাঁড়াও আমার পাজামায় আছে। লেস দিয়ে হবে? তবে খুব মোটাসোটা হলে কিন্তু ওতে কুলোবে না।
— থাক, তোমাকে অতটা খাটতে হবে না। পেয়ে গেছি।
— কী পেয়ে গেছো?
স্নেহা আলমারির কাছে গিয়ে দুটো ঝাঁটা বের করে। একটা ঘর ঝাঁট দেওয়ার ফুলঝাড়ু আর একটা বিছানা ঝাঁটানোর নারকেল পাতার কাঠির ঝাড়ু।
— এই ঝাড়ু দিয়ে তুমি কাকে বাঁধবে? রাত জেগে আর টেনশনে দেখছি তোমার মাথাটা পুরো গেছে।
স্নেহা নারকেল শলার ঝাড়ু থেকে একটা কাঠি ভেঙে নিলো। নিয়ে জানালার কাছে এসে ঋষিকে ডাক দিলো।
— এদিকে এসো। বোঝাচ্ছি। এই দেখো। এখানকার দেওয়ালটার থিকনেস এতোটুকু। মনে হচ্ছে ইঞ্চি দশেক হবে। এবার এদিকে এসো।
ওরা অন্যদিকের জানালাটার কাছে গিয়ে দেওয়ালের চওড়াটা মেপে দেখলো। দেখা গেলো একই মাপে আছে দুটো দেওয়াল।
— এবারে এদিকে এসো।
ওরা দুজন দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।
— দেখ এ দেওয়ালটা ওগুলোর দু গুণেরও বেশী। মোটামুটি আড়াই গুণ। তারমানে এটা প্রায় পঁচিশ ইঞ্চি।
— তো? দেওয়ালের মাপের সাথে খুনের মোটিভের কী সম্পর্ক?
— খুব সম্ভবত একটা সম্পর্ক আছে। আর সে সম্পর্কটা যদি সত্যি হয় তাহলে বোধহয় এ খেলাটার শেষ হবে। তোমার কাছে একটা হাতুড়ি জাতীয় কিছু হবে?
— না, সেরকম কিছু নেই।
— আচ্ছা, যে ঢিলটা ঘরের জানালা ভেঙে মেঝেতে পড়েছিলো, সেটা নিয়ে এসো দেখি। যাও — তাড়াতাড়ি আনো প্লিজ। আমার আর তর সইছে না।
ঋষি ইটের টুকরোটা মেঝে থেকে তুলে এনে স্নেহার হাতে দিলে স্নেহা টুকরোটাকে নিয়ে দেওয়ালের মাঝখানে জোরে একটা টোকা মারলো। দেওয়ালটা থেকে ঢপ শব্দে একটা আওয়াজ উঠলো। স্নেহা স্থানকালপাত্র ভুলে চেঁচিয়ে উঠলো —- ইউরেকা —
ক্রমশ