সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ২২)

স্ট্যাটাস হইতে সাবধান

দুজনাই দুজনাতে মুগ্ধ — দুজনার বুকে কত সুন্দর — দুজনার গীতালির ছন্দে — তন্ময় দুজনার অন্তর —
কোথায় বেজে চলেছে মান্না দের গানের কলির মূর্ছনা। সেই প্রেম লহরি ভেসে এসে দুজনকেই মগ্ন করে তুলেছে। সম্ভবত ওদের বিবাহিত জীবনে ওরা এই প্রথমবার প্রেমে সিক্ত হওয়ার স্বাদ পেলো।
— শুনছো!
— উঁ?
— পৃথিবীটা কতো সুন্দর তাই না?
— আচ্ছা, আমরা এতোদিন কেন এটা বুঝতে পারিনি?
— কী বুঝতে পারিনি?
— ওইসব ছাইপাঁশ লেখার থেকেও একজন আরেকজনকে আঁকড়ে ধরে আদর করা কতোটা সুন্দর!
— সত্যিই গো, তুমি কী সুন্দর করেই না কথা বলো, এতোদিন আমি শুধুশুধু তোমায় কষ্ট দিয়ে গেছি, তাই না বলো?
— রাতের পরেই না ভোর আসে। আগের দিনগুলো অন্যরকমের ছিলো বলেই না আজকের এই মুহূর্তটা এতো সুন্দর লাগছে।

এরপর ফের কিছুক্ষণের নীরবতা। সারাটা ঘরে ছড়িয়ে থাকা কাঁচের টুকরোগুলোকে একটুকরো কাপড় দিয়ে একজায়গায় এনে মেঝেটাকে পরিষ্কার করছিলেন তলাপাত্র। ফুলটুসি এসে ওকে চোখের শাষণে বিদ্ধ করলো। তার বিবাহিত জীবনে ফুলটুসির এতো সুন্দর ভ্রুভঙ্গি কোনোদিনও দেখেননি তলাপাত্র। ফুলুর প্রতি তার সারাজীবনের অবহেলা যেন তলাপাত্রর বুককে ভেঙে দুমড়ে মুচড়ে মেঝেতে পড়ে থাকা খণ্ড বিখণ্ড কাঁচের টুকরোর মতোই ঝনঝন করে ভেঙে পড়লো। তলাপাত্র তার কন্ঠস্বরে যথাসম্ভব মিষ্টতা এনে ডাক দিলেন —
— ফুলুউউউ
ফুলটুসিও তার সারাজীবনের অভিজ্ঞতায় তার স্বামীর এরকম কোকিলকূজিত কণ্ঠস্বর শোনেনি। এ মধুর কণ্ঠধ্বনি তার চিত্তকে আইসক্রিমের মতো গলিয়ে দিলো। সেও যথাসম্ভব সোহাগের ঘি গলায় ঢেলে উত্তর করলো —
— বলোগো…
— তুমি কি সুন্দর করেই না তাকালে আমার দিকে। অথচ এরকম চাউনি দেখার জন্য আমি সারাজীবন কাকের মতো তীর্থ স্যরি তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করেছি।
— যাও, আর অত দুষ্টু দুষ্টু করে কথা কইতে হবে না। আমিও তো আমার সারাটা জীবন ধরে এরকম একজন পতিনিষ্ঠ স্ত্রীকে, ওই দ্যাখো দেখিনি আমিও ভুল বলে ফেললাম স্ত্রীসোহাগী স্বামীকে খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম বলো!
— বুঝি গো বুঝি, আমিও তোমাকে সারাজীবনে এতটুকুও আনন্দ দিতে পারিনি। তোমার মনের ভেতর যে কাঁটাভরা বাগান, ধুস ফের ভুল — যে বাগানভরা কাঁটা — দেখেছো, আমাকে দিয়ে কিসস্যু হবে না, আমি বলতে চাইছি তোমার মনের ভেতর যে গোলাপের বাগান আছে সে বাগিচায় আমি কোনোদিনও জলসিঞ্চন করে উঠতে পারিনি। আর এ জন্যই বুঝি তুমিই ওই হজাবাবুকে নিয়ে মজা করতে? পাড়ার কুকুরগুলোকে খাবার খাওয়াতে, প্রতিদিন বিকেলে নন্দনে যেতে বলো?

ক্রমশ

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।