ক্যাফে রম্যরচনায় প্রদীপ দে

“নেই তাই খাচ্ছো –
থাকলে কোথায় পেতে?”

শীতের শুকনো আর রসহীন বৃক্ষরাজিকে ফাগুনের হাওয়া সবে সতেজ করে দিতে শুরু করেছে …
শরীরে আর মনে তার আমেজ ছড়িয়ে পড়ছে …
আজ যে আবার ভ্যালেন্টাইন ডে!
সারা বিশ্বজুড়ে আজই ভালোবাসার হিড়িক পড়ে গেছে …
বিশ্বে ভালোবাসার অনেক মানে, অন্তর্নিহিত অর্থে
কিন্তু আমারা বাঙালিরে সচরাচর একটু নকল করতেই বেশী এগিয়ে …
কেবলই খুঁজি অপর লিঙ্গ …
শুরু করে দিই ভালোবাসায় দেহ দেওয়া -নেওয়া …
নিভৃতে, অন্ধকারেই ভালো জমে ………
ঝোঁপঝাড় হলে তো আর কথাই নেই।

আমি সদ্য কবিতা লিখতে শুরু করে দিয়েছি। আমি যদিও হাঁফানী রুগী। ডাক্তার আমাকে কঠিন কবিতা নিয়ে ভাবতে মানা করে দিয়েছে। হাঁফানি রোগীদের নাকি বিয়ে করাও মানা। কোন কাজই পারি না। অকর্মার ঢেঁকি! তবু লোভ ষোলোআনা!
মন ছুঁকছুঁক করে, কাম ধাক্কায় কাহিল …

ভেবে ভেবে চোদ্দোই ফেব্রুয়ারী এসেও গেল কিন্তু সিঙ্গেল নাম যে অবিবেচকের ন্যায় আমার লেজ হয়েই ঝুলে রইল। কপালে নেই আর কি হবে একটি মেয়েকেও পটাতে পারলাম না।

কাউকে না পেয়ে মাথার ঠিক রাখতে পারিনি। বৌদির পাগলী বোনটাকেই ট্রার্গেট করলাম৷ ফুচকা খাওয়ানোর নাম করে এক্কেবারে ভুলভাল বুঝিয়ে ওকে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছে গেলাম ইডেনের পাশের ফাঁকা জংলা মাঠে …

বিকালের শেষ অন্ধকার নেমেছে – গোধূলির আলোয় ফাঁকা মাঠে দেওয়া নেওয়ার খেলা শুরু হয়ে গেছে।
দেখি ঝোঁপঝাড় বেশ নড়ছে। বিশাল ঝোঁপে ভরা মাঠে সেকি দুলুনি! সারা মাঠ জুড়ে আগাছার নড়াচড়া …

পাগলীর হাত ধরে টান মেরে ওই ঝোঁপে সেঁদোবার চেষ্টা করতেই পাগলীর পাগলামি শুরু হয়ে গেল ,আমার হাত ছেড়ে পাই -পাই দৌড়। আমিও ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম তাও শিকার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে ভেবে ওর পিছনে বাঘের মত দৌড় লাগালাম। ও দৌড় করাচ্ছে আমায়। সারা ময়দান ছুটিয়ে মারলো। যখন হাঁঁফিয়ে হাঁফিয়ে আমি একেবারেই দম হারিয়ে ফেললাম তখন ওর মায়া হলো বোধহয়। তারপর ওই এসে ধরা দিল। তখন আমি চারপেয়ে প্রভুভক্ত প্রানীর মতোন জিভ বার করে লালা ঝড়াচ্ছি!

পাগলীর বোধহয় টনটনে জ্ঞান! না হলে আমার দম শেষ হতেই ও এসে ধরা দিল? আমিই বোকা! ওকে ফুচকা খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে এনেও আসল কাজেই অক্ষম হলাম!

সিয়ানা পাগলী দেখি হাসছে,
— ঝোঁপে বাঘ ছিল তুমি বোঝোনি? … বুঝবে কি করে? আসলে তুমিতো বাঘ দেখোওনি। নিজের দমই নেই -তাহলে আর বাঘ চিনবে কি করে? বাঘের মতো ক্ষিপ্র দম তো দূরের কথা!

এইসব বলেই হঠাৎই পাগলী আমাকে অবাক করে দিয়ে আমায় জড়িয়ে ধরে কয়েকটা চুমু উপহার দিল। আমি তখনও হাঁফাচ্ছি -তাও ভ্যালেন্টাইনের লোভে ওকে জড়িয়ে ধরে জঙ্গলে লুকিয়ে পড়লাম।
ও আমার আদর খেতে চাইছে …
আমিতো রীতিমতো অবাক …
এত কষ্ট দিয়ে ও শেষে ধরা দিল …
নারী চরিত্র ধরার চেষ্টা করছি … দেহ ধরা অনেক দূর!

পাগলী হেসেখেলে আমার গায়ে লেপ্টে গেল। বললে,
— জানো আমিও কবিতা লিখেছি। শুনবে?

আমি কথা বলতে পারছি না, শুধু সুখে ঘাড় নাড়িয়ে দিলাম।

ও শোনাল —
— “নেই তাই খাচ্ছো থাকলে কোথায় পেতে? “

আমি তখনও হাফাচ্ছি আর বোঝবার চেষ্টা চালাচ্ছি ও সত্যি পাগল না অন্য কিছু……?

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।