নিরেট সময়ও বোরোসিলের বাসনের মত নিঃশব্দে কখনো কখনো চুরমার হয়ে যায়,চুরমার হয়ে যায় মন । খুব যত্ন করে কুড়িয়ে রাখি স্মৃতির টুকরোগুলো অভাবী দিনের জন্য। ভিতু আমি খুব ছোটবেলায় একবার অ্যালুমিনিয়ামের স্কুল বাক্সে করে স্কুল ফেরত ভরে নিয়ে এসেছিলাম ছোট্ট কুকুরছানা। সেদিন বৃষ্টি ছিল না বলে ছাতার কথা ভুলে ফেলে এসেছিলাম গানের স্কুলে। মা খুব বকেছিল।একদিন খুব ঝড়ের বিকেলে গানের স্কুলে পৌঁছে দেখি তখনো কেউ আসে নি।মাস্টারমশাই ‘বাদল বাউল বাজায়…বাজায় রে একতারা’ গানটা খুব অন্তরঙ্গভাবে শেখাতে চেয়েছিলেন। আমি গাইতে শিখেছিলাম কিন্তু হারমোনিয়ম বাজাতে পারি নি । একটা অব্যক্ত অনুভূতিতে সেদিন মাস্টারমশাই কেন কেঁদেছিলেন বুঝতে পারি নি । বাইরে তুমুল ঝড় বৃষ্টি হচ্ছিল। মাস্টারমশাই আমাকে বলেছিলেন, ‘তুমি বাড়ি চলে যাও, আজকে আর গান শেখানো হবে না’। একটু অবাক হলেও সত্যিই সেই ঝড়ের মধ্যে একলা পথে আমি বাড়িতে ফেলেছিলাম। আমাদের প্রতিবেশী অনিন্দ্যদার ছোট্ট ছেলে বিল্টু প্রায়ই খেলা করতে আসত আমাদের বাড়িতে। এলেই ছোটখাটো অকাজ করত সে। একদিন আমার ঠাকুমার শাশুড়ির আমলের একটা বড় সাদা পাথরের বাটি বারান্দা থেকে নিচের উঠানে ফেলে দেয়। খুব মোটা শ্বেত পাথরের বাটিটা চিড় ধরে যায়। ঐ বড় বাটিটায় মা রান্নার নুন রাখত। মা খুব আফশোস করলেও বিল্টুকে বকে নি।আমার মনে হয়েছিল আমি যদি বাটিটা ভেঙে ফেলতাম মা কি আমাকে বকতো ? একটু বড় হলে বুঝতে পেরেছিলাম সব কান্নার যেমন কারণ থাকে না, তেমনি সব কথারও অর্থ থাকে না। মন যখন যেমন থাকে তখন সে তেমন কাজ করে।