কবিতায় পারমিতা চট্টোপাধ্যায়

আমি নারী
আমি নারী
তাইতো ভালোবাসতে জানি,
তোমার চোখেরজলকে আমি
আঁচল দিয়ে মুছতে জানি
আমি ভালোবাসতে জানি।
আমি নারী
তাইতো আমি সইতে জানি,
তেমার দেওয়া আঘাতকে
আমি বুকের মাঝে বইতে জানি
তবুও আমি ভালোবাসতে জানি
আমি সইতে জানি।
আমি নারী
আমি সাঁতার কাটতে জানি
একূল আমার ভেঙে গেলে
ওকূলে ঘর গড়তে জানি
তাইতো আমি বাঁচতে জানি।
আমি নারী
আমি লড়াই করতে জানি
যুদ্ধ করে জিততে জানি
কাঁটার পথে চলতে জানি
রক্তঝরা দেখতে জানি,
আবার আমি মাথা তুলে পথ চলতে জানি।
যতই ভাবো তোমরা আমায়
অসন্মানে ডুবিয়ে দেবে,
চোখের জলে ভরিয়ে দেবে,
আমার বাঁধা ঘরটা ভেঙে দেবে
নরম মাটি বলে আমায় শক্ত পায়ে দলে দেবে?
নরম হলেও শক্ত আমি হতে জানি
হৃদয় আমার ভেঙে গেলেও
তরী আমার বাইতে জানি,
আমি যে মা
শিশুর জন্যে
লড়াই মাঠে নামতে জানি,
আমি যে স্ত্রী
স্বামীর ঘরটা গড়তে জানি
বুক দিয়ে ঘর আগলাতে জানি,
তবুও যদি ঝড়ের রাতে ঘরের দরজা ভেঙে পড়ে
ভাঙা ঘরেই প্রদীপ আমি জ্বালতে জানি,
ঘরের চালটা ছাইতে জানি।
যতই ভাবো হানবে আঘাত,
জীবন পথে করবে ব্যাঘাত,
আমিতো সেই নারী-
চারদিকে চার হাত ছড়িয়ে
চলার পথে সকল বাধা
দু পা দিয়ে দলতে জানি,
কতবার তো করছ অসন্মান
নারীর লজ্জা কেড়ে নিতে
নিজেদের করেছ তৃণ সমান,
ভাবোনি একবার-
এই নারীই
তেমাদেরই মা, তোমাদেরই বোন,
তোমাদেরই মেয়ে তেমাদেরই ভালেবাসা,
তবুও নারী যায়নি দমে
তার লড়াই যায়নি থেমে,
পথের কাঁটা দলে দিয়ে
রক্ত ঝরা পা দুটি নিয়ে
ঘরে বাইরে সামাল দিয়ে,
নিরুপমা নারী যাদ্ধে জয়ে
চলছে এগিয়ে।।