কবিতায় পিয়ালী বসুঘোষ

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থঃ জোনাকির ডাকবাক্স (২০১৭) লিখি আনন্দে-বিষাদে, সুখে- অসুখে। অমৃত বা গরল দুটোই না পসন্দ।

১৯ নভেম্বর বিশ্ব পুরুষ দিবসে বিশেষ লেখা

বাবা
বাবা চলে যাবার পর তার কাকচক্ষু দৃষ্টি আমাকে নিদ্রিত দেখেনি কোনোদিন।অথচ আমি ঘুমিয়েছি রোজ।ঘুমের অতলে তলিয়ে গেলে ভ্রান্তিময় রক্তপ্রবাহে কৌতুকের চাদর লেপ্টে থেকেছে চুপি চুপি …
বাবা আমার আলোছায়াময় প্রিয় বৃক্ষটি ছিলেন।
নির্জন অপরাহ্নে বৃক্ষের ছায়াটা সরে গেলো যেই
ঝর ঝুর বালির মতো গুড়িয়ে গেলো মায়ের সিঁদুরদানির রক্তিম সৌরভ।
আমি একটা স্বপ্নের দোরগোড়ায় অপেক্ষায় অশান্ত দাঁড়িয়ে রইলাম।ঘর নির্মাণের কলাকৌশল শেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বৃক্ষটি।
বাবা আমার বহুবার রিওয়াইন্ড করে শোনা বব ডিলানের সেই অভিমান।
একবার ভুল করে বাবার মতো দেখতে একটা লোককে তীব্র ভালোবেসে ফেললাম,আদপেই যার প্রেমিকা ছিলাম না আমি।আমারও প্রেমাস্পদ নয় সে ।
তবু, নিজের সাথে ছোটখাটো যুদ্ধ শেষে ,একদিন আমার নাম হলো মিথ্যাচারী ।এখন সেই বৃক্ষের ছায়ায় একা দাঁড়িয়ে …
বাবা ,তোমার মোহের মিহিজাল থেকে আজ আমি মুক্ত হতে চাই ।তোমার শিকড়টা আমাকে কাটতেই হবে আজ ।নইলে জানো তো, লোকটা আমাকে এখনো প্রতিরাতে ভীষণ কাঁদায় ……

(কবিতাটি কবিকর্ণিকা পত্রিকার বর্ষা সংখ্যা ১৪২৬-এ প্রকাশিত)

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।