কবিতায় প্রদীপ বসু

উল্লাস

পাড়ার মোড়ে বড়দার চায়ের দোকান
ঘন্টায় ঘন্টায় খরিদ্দার পাল্টায়,
একটি টাওয়েল রুমাল নিয়ে উল্লাস বেঞ্চি ও টুল সাফ করে প্রতিনিয়ত,
খরিদ্দার লক্ষ্মী বলে বড়দা নমস্কার করে,
উল্লাস মনে গেঁথে নিয়েছে এই চরম সত্য কথা।
তার কাজ চা, বিস্কুট এগিয়ে দেওয়া,
খালি গ্লাস, কাপ ডিস পরিস্কার করে ধুয়ে মুছে রাখা।
মাতাল বাপটা লরির ধাক্কায় শেষ
তাই বৃত্তি পাওয়া উল্লাস কাজ ধরেছে চায়ের দোকানে,
বড়দার কল্যানে যা পায় তাতে শুধু ঘর ভাড়া মেটে,
মা লোকের বাড়িতে কাজ করে পেট ভাত জোটে কোনও মতে।
বিশেষ বিশেষ খরিদ্দার দু’চার টাকা বকশিশ দেয়,
উল্লাস ফিরিয়ে দিতো আগে, বড়দার নজরে আসতেই সে মাথা নেড়ে সম্মতি দেয়,
এখন যা বকশিশ পায় রাতে বড়দা কে দিয়ে বলে মাস মাইনেতে জুড়ে দিয়ো।
বড়দা জানতে চাইলে বলে, ছেলে মানুষ যদি লোভে পরে যাই, তখন কি হবে???
ও বাপু তুমিই রাখো, বাড়ী ভাড়া দিতে পারবো।
এইভাবে কাটছে দিন রাত দুপুরের সময়,
বড়দা না থাকলে কি যে হতো, না জানি কি হয়…
পড়াশোনা লাটে তুলে মায়ের পেটের অন্ন তুলতেই শিশু শ্রমিকের আখ্যা পায়,
শিশু শ্রম অন্যায় হলেও এই পয়সায় ভাতের গন্ধ পায়।।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।