এক মাসের গল্পে পাপড়ি ভট্টাচার্য (পর্ব – ২)

ক্যানভাসে নানা রং

সোশ্যাল মিডিয়ায় সে ছবি দেখা গেছে। সোমা রাগে দুঃখে ঘরবন্দী করেছে নিজেকে। কলেজ ও যাচ্ছেনা। দোলা ওকে টেনে বের করেছে। সোমা কিন্তু খুব চুপচাপ হয়ে গেছে।
কয়েকমাস পর অনন্যা আবার সোমা আর দোলার সাথে ভাব করে ফেলেছে।বলল তোদের ছাড়া বাঁচতে পারব না। সঙ্গে সঙ্গে সজনে ফুলের মত এক ঝুড়ি নিন্দে ছড়ালো ছেলে দুটোর বিরুদ্ধে।ঐ বিশ্ববখাটে গুলোর সাথে আর কিছুদিন মিশলে জীবন তেতো হয়ে যাবে। ইত্যাদি সোমা আর কাউকে বিশ্বাস করেনা। স্বরূপ নির্লজ্জের মত ফোন করেছে। সোমা ক্ষমা করেনি।
এদিকে দোলা আর ধীরাজ নিজেদের পড়াশোনা ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করে খুব কেরিয়ার সচেতন হয়ে উঠেছে।
আমাদের পাড়ায় অনেক ফ্যামিলির বাচ্চা ছেলে মেয়ে ছোট্ট ঘেরা মাঠে ছুটোছুটি করে খেলে রোজ। আমার খুব ভালো লাগে। মনে হয় কত না রঙিন প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে।প্রায়ই দেখি ছুটির দিনে অনন্যা ওদের সঙ্গে হুটোপুটি করছে।প্রতি শনি রবি মাঠে যেন রঙিন ফুল ও প্রজাপতির জলসা বসে যায়। ঘাসের উপর গোল হয়ে বসে বাচ্চার মায়েরা সদ্য কলেজ পাশ করে বেরনো অনন্যার হাতে বাচ্চাদের ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে আড্ডা দেয়।
মাঝে মাঝে অনন্যা আমাকে ডাকে,এই সৃজনী এদিকে আয় দ্যাখ দ্যাখ ওকে।কান্ড দেখে হাসতে থাকি সবাই।একটা গাবলু গুবলু বাচ্চাকে অনন্যা খুব চটকাচ্ছে । বাচ্চা ছেলে টা আধো আধো গলায় বলল ,”তুমি খুব ভাল, আমার মা খালি বকে। আমি তোমার কাছে থাকব। এই ভাবে পাড়ার কত বাচ্চা যে অনন্যার হাতে বড় হয়ে উঠল,তা আমরা সবাই জানি। বাচ্চার মায়েরা,অণু একটু রাখতো বলে কত কাজ সেরে আসে। আমি এবং অনেকে বাচ্চা ভালবাসি, কোলে নিয়ে আদর করি । খুনসুটি করি, কিন্তু ঐ পর্যন্ত।অনন্যার মত না। একদিন দেখি একজনের বাচ্চা মেয়েকে ঘুম পাড়াতে এম এ পরীক্ষার পড়া পড়ছে।
পারেও বটে অনন্যা।

ক্রমশঃ

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।