T3 শারদ সংখ্যা ২০২২ || তব অচিন্ত্য রূপ || বিশেষ সংখ্যায় পিয়াংকী

আশ্বিন -কার্তিক ক্রমশ..
অতঃপর পাড়ে এসে ভিড়লো নৌকা।
জলক্ষত পেরিয়ে সন্ধ্যার বৈঠায় তখন গার্হস্থ।
শস্যআলো রূপোলীআঁশ আর ভরন্ত যুবতীর চুল,
ধরেবেঁধে এনেছি আশ্বিন। মায়াশাঁখের তলদেশে গভীর জোয়ার। আছড়ে পড়ছে বিগতশোক। ফুটিফাটা মাটির হাঁড়ি, দু’মুঠ ক্ষুদসেদ্ধ আর অ্যালুমিনিয়ামের থালায় দাউদাউ খিদে। শহরের বুকের ভেতর দিয়ে অজস্র রাস্তা আর অসংখ্য মানুষ। কে কোথায় কিভাবে মিশছে তার কোনো নির্দিষ্ট হিসেব নেই তবু শেষরাত পার হলে মিইয়ে যাচ্ছে মাটির মূর্তি।
কাশফুলের পাশে বসে আছে দিন গুজরান করা মানুষ, কড়া পড়া হাতের আঙুলে শত বৎসর প্রাচীন হাঁজা। পোশাকে ফুটন্ত ঘামের ছিট্ ছিট্ তিলাদাগ। তবু কাশফুল বুলিয়েই তাঁর শান্তি। সাদা আলোয় কুড়িয়ে তোলা এক আঁচল শিউলি।
হাওয়ায় ভাসানো মিহিদানা সুর। মাছের গায়ে স্বস্তিক আর মহুয়াতলায় বাঁশির ফুঁ। পুজোর প্রসাদে প্রেম, প্রেমের ভিতর হলুদ পাখি আর পাখির কাছাকাছি দু’জন।
আশ্রয় উপচে পড়ছে ঘটির জলে, সেই জলে ভেজানো সাদা বক আর দু’চারটে উষ্ণ কথোপকথন। আঙুলে আঙুলে গিঁট। বনকলমীর পেঁচানো লতায় জুড়ে জুড়ে থাকার অঙ্গীকার।
আশ্বিন ফুরিয়ে শেষমেষ কার্তিক, কার্তিক চলে গেলে অগ্রহায়ণ। রূপ বদলে সাজবে প্রকৃতি।এই যাওয়া আসা নিস্তব্ধ, নিঃশব্দ। চলাচল তো এমনই হওয়া উচিত…