সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে পিয়াংকী (সাবেক কথা – ১)

সাবেক কথা
পিওরসিল্ক
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে রাত্রি,ঘন সবুজ আপেলগাছের মতো সামান্য একটি রাত্রি। জোনাকি আর নক্ষত্র নিয়ে তাঁর সনাতনী চলাচল।তবু এরা কেউ নীরব নয় , গয়না খুলে রেখে যেদিন মা হেঁটে গিয়েছিল সমুদ্রের দিকে সেদিন আমি প্রথম রাত্রি দেখেছিলাম।
একটা লাঠি আর রজনীগন্ধার…
সময় বড় রূক্ষ্ম , ফুটিফাটা মাটির থেকে পুরো রস নিংড়ে নিয়ে এ মহল্লায় একদম একা করে দিল আমায় সে। কোনও একদিন খেলার ছলে জিজ্ঞেস করেছি যেই, “মা এমন একটা জিনিসের নাম বলো যেটা তোমার নেই অথচ পাবার খুব ইচ্ছা”। র্যাপিড ফায়ার রাউন্ডের মতো এক মাইক্রো সেকেন্ডও না ভেবে মা বলেছিল ,”পিওরসিল্ক”। পিওরসিল্ক? অবাক চোখে মা’র দিকে তাকিয়ে সেদিন বুঝেছিলাম ওটা কোনও শাড়ি নয় ওটা একটা সংসার। যেখানে কাঠের বাক্সে একটা পিওরসিল্ক থাকার অর্থ হল, “মাগো,এভাবেই আমার ঘরে তোমার লক্ষ্মীচিহ্ন সদা অক্ষয় রেখো”। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর গল্প আমি ছোট থেকে শুনিনি,বরং এটা জেনে এসেছি পান্তা ফুরিয়ে যাবার আগে কিভাবে গুছিয়ে রাখতে হয় পরেরদিনের জলটুকু।বিবাহিত জীবনের ছত্রিশ বছরের মাথায় একটা পিওরসিল্ক হল মায়ের,বিরাট সম্পত্তি।
মা নেই, কিন্তু পিওরসিল্কটা রেখে গেছে। চন্দন রঙের ওপর বেহায়ার মতো যত্রতত্র লাল। কাঠের তক্তপোষ সরালে দেখা যায়, বয়স বাড়ছে দাম্ভিক ঐ পিওরসিল্কের, গায়ে গুটিবসন্ত। অথচ, এতো জ্বরজ্বালা নিয়েও সে-ইই এখন আমার আর ভাইয়ের রক্ষাকবচ…
দুপুর ১২ঃ২৯
১৫ই জৈষ্ঠ্য ১৪২৮
ইছাপুর