সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে পিয়াংকী (সাবেক কথা – ৫)

সাবেক কথা
জড়ভরত
সভ্যতা থেকে মিথুনমূর্তি , অন্ধকার পেরিয়ে আয়নারঙ। জন্মান্তরবাদ। জন্মতত্ত্ব। তুমি মানো, আমি না। তাতে কি এসে যায় সেই হরিণশাবকের ? ক্ষত কি পূর্বজন্ম ? জাতিস্মর কি প্রত্নতাত্ত্বিক? খুঁজে বেড়াই তন্নতন্ন করে। যার পরতে পরতে গোপনীয় পথের মতো রাখা আছে সুগন্ধি মলম অথবা এক সুদীর্ঘ যাতায়াত। ভূমিষ্ঠ হবার মায়াছিন্ন শৃঙ্খল?
ভরতের জন্য একটা সাম্রাজ্য ছিল, ছিল ক্ষমতার রসায়ন । ছিল বিলাস, ছিল বৈদুর্য।তবু একের পর এক পাতা উল্টে আমি শুধু দেখেছি তার অবয়ব।যেন তীব্র নেশা, এক অগ্নিকুমার এগিয়ে ধরেছেন তরবারি, তার পাশে খেলা করছে কোমল এক শিশু। হাঁস ডানা ঝাপ্টালে যেভাবে উছলে ওঠে জল যেভাবে চতুর্দিকে ছিটিয়ে যায় ঝর্ণার শব্দ ঠিক তেমন উচ্ছ্বল দুটি পুরুষচোখ। নিজেকে চিমটি কেটে জানতে চেয়েছি,” ঈশ্বর আপনার এত ধৈর্য এত অসহায়তা ? ”
বিষাদ ছাড়া আর কোনো সৎ উপায় নেই যেখানে বিছিয়ে রাখা যায় শীতলপাটি, যেখানে দু’চার পা হড়কে গিয়েও বলা যায়, “আমি আবার জন্ম নেব”। জড়ভরতের পায়ে শিকল? সোনা অথবা রূপো যাই হোক না কেন একটা বিস্তৃত উপেক্ষিত ইতিহাস তাড়া করে বেড়ায় জঙ্গলে জঙ্গলে।
তপস্যা যোগ ধ্যান… চর্চা করতে করতে যিনি পেরিয়ে যান প্রিয়জনের মৃত্যু, আঘাতের দগদগে ঘা, প্রেমের বিচ্ছেদ, সন্তানবিরহ অথবা জন্মজন্ম জন্মশোক…আমি তাঁকেই পুরুষ বলে দাবী করি সূর্যোদয় প্রাক্কালে। সূর্যাস্তের আলো আঁধারীতে ওঁকেই বলি জড়ভরত।
জড়ভরত,তুমিই সেই প্রয়োজনীয় উষ্ণতা যার আঁচে সেঁকে নিই আমার প্রিয় পুরুষের গভীরতম ওষ্ঠসুখ আর নির্মীয়মান দরজা-জানালা…
১২ ই আষাঢ়
সন্ধে ৮ঃ১৫
ইছাপুর গঙ্গার পার