সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে পিয়ংকী (সাবেক কথা – ২৯)

সিরিজ সাবেক কথা
গজাল
ভাসানমঙ্গল সেরে সবে ডিঙি ছুঁয়েছে মেয়ে।অর্ধেক আঁচল তখনও লুটিয়ে আছে জল আর পাটাতনের মাঝের আড়ষ্ট ফাঁকে। কে টেনে নিচ্ছে এই উলঙ্গ পোশাক? বেঁধে ঝুলিয়ে দিচ্ছেই বা কোথায়? কড়িকাঠে প্রহর শেষের অবেলা। মেয়ের কাঁধ স্পর্শ করেছে পুরাণ অথবা প্রাচীন। ভেসে যাচ্ছে সবটুকু,ততক্ষণে ছিঁড়ে গেছে আঁচল আর ভিজে গেছে মন।
একহাত গজাল। একজন্ম যন্ত্রণা। আঘাত পারেনি মেয়ের গায়ে কাঁটা ফোটাতে,পারেনি নিম্নগামী ছায়ার আশ্রয় থেকে বিচ্ছিন্ন করতে। তবু কিছুটা নরম যোগাযোগের মতো পিছল হয়েছে পথ। গাঙচিল এসে ছিনিয়ে নিয়েছে মৃত্যুকথা। নির্দিষ্ট সময় পর থেমে গেছে ডিঙি।
এইপারে এখন উৎসব। আতসবাজি রংমশাল আরও হাজার আলো। এইপারে ঘন বন দারুচিনি দ্বীপ কর্মফলের গাছ। টুপটাপ বোঁটা ছিঁড়ে খসে পড়ছে ফল।যন্ত্রণা নেই নেই অপেক্ষা। সান্দ্র তরলের ভেতর বদলে যেতে থাকা অবয়ব। গজালের সহচরী নেই কারণ ব্যথার কোনো দোসর নেই। অদৃশ্য ওঁ কিংবা গর্ভজাত কালের কপালে এখন শুধুই নৌকাজন্ম।
ভাসানগান ভাসানবাড়ি ভাসানসুখ। মেয়েটি নেমে গেছে।এখন কাঠের পাটাতনের ওপর তার আলতারাঙা পা। ডুবে যাচ্ছে জল। ভেসে উঠছে অন্তর্ভুক্ত পদ্মবন। ভেসে উঠছে না-পোড়া নাভি। এখানে বৈদুর্য এসেছে খামখেয়ালি মেজাজ নিয়ে, বিলিয়ে দিয়েছে স্বর্গসুখ। ধূসর বিষন্ন রাত।ছাই আর ছাই। সাপের ঘরটি সবচেয়ে নিরাপদ, সেখানে সবটুকুই পিচ্ছিল।
মেয়ের গা পুড়ে যাচ্ছে জ্বরে। ভুলকথার গা ঘেঁষে কে বা কারা যেন রেখে গেছে শ’ খানেক গজাল।
৯ই আষাঢ়
রাত ১২:৩৬
ইছাপুরের বাড়ির ছাদঘর