সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে পিয়াংকী (পর্ব – ১৬)

স্টেশন থেকে সরাসরি

ইংরেজি ১৬ই আগস্ট ২০২১
বাংলা ৩০শে শ্রাবণ ১৪২৮
সোমবার

মুক্তগদ্য লিখতে বসেছি আর মুক্তির শ্লোগান আওড়াব না তা কি হয়।সেই কবেই তো স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ বলে গেছেন “আমার মুক্তি আলোয় আলোয়”। মুক্তি মানে কি অস্তিত্ত্বের সাথে যোগাযোগ নাকি কাটাকুটি খেলতে বসে পুকুরে ঢিল ছোঁড়া। জানা নেই
স্বাধীনতা দিবসের পঁচাত্তরতম বছর উদযাপন হল গতকাল, দেশ জুড়ে। আমরা গতপরশু রাত বারোটা বাজার পর থেকে সকলেই একে অপরের ইনবক্সে পাঠাতে থাকলাম ” স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা”।যে পাঠাচ্ছি বা যাকে পাঠাচ্ছি উভয়ের কেউই কিন্তু জানিনা আদতে আমরা স্বাধীন কিনা। এই যেমন ধরুন আমি, পিয়াংকী, জীবনের অনেকগুলো গ্রীষ্ম বর্ষা সংক্রান্ত জন্মতিথি পেরিয়ে এলাম।অথচ এখনও আমাকে আশেপাশের লোকজনের থেকে সরাসরি শুনতে হয়, “মাইগ্রেনে সারাদিন কবিতা লিখিস কেন?এতে চোখের ওপর প্রেসার পড়ে ” তাদের বোঝানোর দায় মাথায় তুলে না নিয়ে বরং বলতে ইচ্ছে করে, “কবিতা লিখলে মাইগ্রেন কমবে ডাক্তার বলেছেন”। বলিনা কিছু। চুপচাপ বসে থাকি। আরও দু’চার দানা কবিতা বুকের মধ্যে এসে আছড়ে পড়ে।
ওইসময় আমি ভাবি নিস্তব্ধতা খান খান করে দিক তাদের যারা অন্যের একান্ত নিজস্ব ঘরে উঁকি দিতে আসেন।
ধরুন একজন পুরুষ। দিনান্তে কাজকর্মের ব্যস্ততার পর রাতে বসে কিছুক্ষণ টিভি দেখতে ভালবাসেন। খবর চ্যানেলের তর্কবিতর্ক হোক বা হরর মুভি বা পর্ন অথবা ডিসকভারি, পছন্দ তো একান্ত তার হওয়া উচিত। হ্যাঁ কি না? কিন্তু তা হয় কী? টিভির সুইচ অন করার সাথে সাথেই মায়ের চোখ ইশারা, যেন তার ঘরে যাওয়া হয় সেই আদেশ। উঠে বসতে না বসতেই স্ত্রীর কথা, ছেলেটাকে নিয়ে তো একটু বসতে পারো।
বিষয়টা শেষমেষ এমন যেন, ” ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে”। হাস্যকর হলেও এই ছোট্ট ছোট্ট ঘটনাগুলো কিন্তু স্বাধীনভাবে বাঁচার প্রমাণ বহন করে না।
মাধ্যমিক পাশের পর একজন ছাত্র বা ছাত্রীর সেই স্বাধীনতা থাকে না আজও যেখানে সে তার পছন্দের সাব্জেক্ট নিয়ে সে এগোতে পারে। যে ইতিহাসের গবেষক হতে চেয়েছিল তাকে জোর জবরদস্তি পড়ানো হল ইঞ্জিনিয়ারিং। স্বাভাবিকভাবেই শুরুতেই তাকে ভেঙেচুরে দেয়ার পর সকলে যখন জিজ্ঞেস করলেন জীবনে আদর্শ কে, সে নির্দ্বিধায় উত্তর দিল আমার আদর্শ আমি-ই। তখনি তার ঘাড়ের কাছে রেরে করে তেড়ে এসে গরম নিশ্বাস ফেলবে এই সমাজ। মানুষের তৈরি কাঠামোতেও যে রিপেয়ারিং দরকার সেটা বোঝার সময় হয়ে গেছে
সম্পর্ক হোক বা অস্তিত্ব প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় নিয়ে তাকে তেল জল দিয়ে লালন করতে হয়। স্বাধীনতাও সেভাবেই পালন আর লালন করার।
শুধুমাত্র একটা তেরঙ্গা আর কিছু ট্রেডমার্ক গান ছাড়াও স্বাধীনতা থাকে।ঘাসের ডগায়, কপালের টিপে ছেলেদের বুকপকেটে শাড়ির আঁচলে এমনকি ঘরের দেয়ালেও লেগে থাকে জীবিত স্বাধীনতা।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।