সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে পিয়াংকী (সাবেক কথা – ২৬)

সিরিজ সাবেক কথা

খসখস

চারুলতার গায়ে ঝুঁকে পড়েছে চৈত্রের গাছ-গাছড়া। পাতা পড়ার শব্দে খুলে যাচ্ছে সেইসব বিকেল, যেখানে বিছিয়ে রাখা আছে শ্রমজীবী ঘাম। কুল ঝরে পড়া দুপুর অথবা কালবৈশাখী সন্ধের আমের মুকুল। খসখসে সুতির জামায় ফুলপ্রিন্ট কিছু পোকামাকড় আর ভুলছাপ মফস্বলি ছায়া। তবু, চাঁদ ওঠে। গলির ভিতর রিক্সা চলে। বাড়িতে কুটুম আসলেই শুক্তোর ঝোলে বিউলিডালের বড়ির গন্ধ বেরোয় । তিনি শুয়ে থাকেন অভাবের দায়ভার হাঁটুতে নামিয়ে রেখে। প্রখর দাবদাহে চামড়া পুড়ে পোশাক হয়। হুহু বাতাসে উড়ে যায় ন্যুনতম নুন, একেই বালিয়াড়ি বলব ভেবে যে মুহূর্তে পেছনে তাকাই …

আত্মপথ। দুর্গম। পার্বত্য শিখরে জমাট বাঁধা তুষার, শিকড়ের খোঁজ নিয়ে কথা হয়,কথা হয় ম্যানগ্রোভ অরণ্যের বেড়ে ওঠা নিয়ে। কিন্তু কোনো দিন আমাদের কথা হয় না সম্পর্ক বাঁচানোর চেষ্টা নিয়ে। খসখস থেকে উনি বেরিয়ে আসেন রোজ। গালের ওপর গজাল রেখে বলেন ‘এগিয়ে যাও, যতবার এগোবে ততবারই পেছন ফিরে তাকিও,তুমি এগোলে পেছনে জন্মে যাবে একগোছা ঘাস’। খসড়া গোছানোর ফাঁকে জ্বলে ওঠে মহাকাল। আমি ভয় পাই, গুটিয়ে থাকি জলের ফাঁকে, লিখে রাখি যাবতীয়। মুহূর্ত এগিয়ে যায়, এগোয় না দরজা জানালায় ঝুলে থাকা বয়স্ক সেই খসখস।

আপাতত, নক্ষত্রের গায়ে গুটিবসন্ত । জল নেমে গেছে যমুনায়, অমাবস্যার ভেতর অসংখ্য ময়ূর। বুঝি বিষণ্ণতা থেকে পালক খসে পড়লে,বাবারা  তাঁকে চৈতন্য বলে ডাকেন আর আমরা বাবাকে ভাবি ‘খসখস’

৩রা বৈশাখ
সকাল ১১:০৮
মাসীমণির বাড়ির তেতলার চিলেকোঠা, সোদপুর

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।